অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘প্রাণনাশের হুমকি’ ঘিরে সরগরম বিশ্ব। সোশাল মিডিয়ায় এই হুমকি দেওয়া হয় ৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া প্রশাসন ৷ ইন্দোনেশিয়া হয়ে ৮ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা-রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি৷ পরের দিন অর্থাৎ ৯ জুলাই মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে কর্মসূচি রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ৷ কর্তৃপক্ষের তরফে সেই কর্মসূচির প্রচারে ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে হুমকি বার্তাটি আসে ৷
শনিবার ‘দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ জুলাই মার্ভেল স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘মেলবোর্ন মিটস মোদি’ নামক কমিউনিটি ইভেন্ট নিয়ে করা একটি সোশাল মিডিয়া পোস্টের নীচে এই হুমকি পোস্ট করা হয় ৷ ‘আবু মোস্তফা’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে করা ওই মন্তব্যে বলা হয়, “অনুষ্ঠান চলাকালীন স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ রাখা ভালো, নতুবা তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আসবেন নিজের মৃত্যুর জন্য।” তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের খোঁজ করতে শুরু করেছেন। আইপি অ্যাড্রেস ধরে খোঁজ শুরু হয়েছে ৷ বিষয়টি সম্পর্কে ‘দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডে’ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ওই পোস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইপি (IP) ঠিকানা শনাক্ত করেছেন ৷ প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুমকি বার্তা ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কোনও ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে এদিনই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে আয়োজিত ‘অস্ট্রেলিয়া-ভারত বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন’-এর জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগত জানাতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ মেলবোর্নে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আতিথ্য দেবেন ৷ এই সফর দুই দেশের মধ্যে ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও জোরদার করবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করবে বলে আশা করা হচ্ছে ৷ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, ভারত- যা বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ৷ অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। মোদির এই সফর দু’দেশের সম্পর্ককে অন্যমাত্রায় পৌঁছে দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল ৷ আলবানিজ বলেন, “বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনছে। অস্ট্রেলিয়া-ভারত সম্পর্ক এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

