শেষ পর্যন্ত পরীক্ষাগারের রিপোর্টে সামনে এল চাঞ্চল্যকর সত্য । জানা গেল, ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর নেপথ্যে ছিল ভেজাল সর্ষের তেল ! পরীক্ষায় আরও প্রমাণ হয়েছে, ওই তেলে মেশানো ছিল অত্যন্ত বিষাক্ত আর্গিমোন (Argemone mexicana)-এর তেল, যা সাধারণভাবে ‘কাটাইলা’ বা ‘পিলা ধুতুরা’ নামে পরিচিত । ঘটনাটি ঘটেছে পালামৌ জেলার পাডওয়া ব্লকের সিক্কা গ্রামে । গত 10 দিনের মধ্যে একে একে মৃত্যু হয় কুলদীপ মাহাতো, তাঁর স্ত্রী শ্বেতা মাহাতো, ছেলে নকুল মাহাতো এবং দুই মেয়ে ববিতা কুমারী ও ইন্দু কুমারীর । পরিবারের সকলেরই শরীরের বিভিন্ন অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গিয়েছিল । পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের শরীরে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর পর রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এবং খাদ্য সুরক্ষা দফতরের যৌথ দল বাড়ি থেকে সর্ষের তেলের নমুনা সংগ্রহ করে । রাঁচির খাদ্য পরীক্ষাগারে সেই নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, সর্ষের তেলের সঙ্গে মেশানো ছিল আর্গিমোন মেক্সিকানার বিষাক্ত তেল। এই তেল মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ৷ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 19 জুন প্রথম প্রাণ যায় পরিবারের কর্তা কুলদীপ মাহাতোর । পরদিন, প্রাণ হারান তাঁর মেয়ে ববিতা । 26 জুন মৃত্যু হয় আরও এক মেয়ে ইন্দুর । পরে রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (রিমস)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় 28 জুন মৃত্যু হয় স্ত্রী শ্বেতা এবং ছেলে নকুলের । চিকিৎসক ডা. আর কে রঞ্জন জানান, রোগীদের উপসর্গ দেখেই প্রথম থেকেই আর্গিমোন বিষক্রিয়ার সন্দেহ হয়েছিল । তাঁর কথায়, এই বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে দ্রুত হৃদ্যন্ত্র, লিভার ও কিডনির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে । চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনে এটি তাঁর দেখা দ্বিতীয় এমন ঘটনা । অন্যদিকে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পালামৌ পুলিশ । প্রথম তিনজনের ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও, এবার মৃতদের ভিসেরা, রক্ত ও মূত্রের নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিষপ্রয়োগের অভিযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা ।

