banganews.net

ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ কালীঘাট তৃণমূল । মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে । আগামী ৭ সেপ্টেম্বর হতে পারে শুনানি। ক্ষতিপূরণ-সহ একাধিক দাবিতে হাইকোর্টে মামলা করেছিল মমতা শিবির । কিন্তু তাতে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি আদালত। তৃণমূলের দাবি, কলকাতা পুরনিগম অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে বিলবোর্ড সরিয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই সরিয়ে দেওয়া নামফলক আবার আগের জায়গায় লাগিয়ে দেওয়া হোক। ভাঙচুর করার জন্য ক্ষতিপূরণও দেওয়া হোক। এমনই দাবিতে মামলা দায়ের হয়েছিল। বাড়ির মালিকের অবশ্য আগেই দাবি করেছেন,তাঁর অনুমতি ছাড়াই ওই নামফলক লাগিয়েছিল তৃণমূল। হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চে তড়িঘড়ি মামলা হয়। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূলের এই আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট। নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মমতা শিবির। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসের বিলবোর্ডে ভাঙার ঘটনায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী নির্দেশ ছিল, যেহেতু বিলবোর্ড ইতিমধ্যে খুলে ফেলা হয়েছে সেই কারণে আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি পার্টি অফিসের উপর যাতে কোনও পদক্ষেপ না করা হয় সেই আবেদনও করা হয়েছিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে । কিন্তু সেই ব্যাপারে বিচারপতি জানান , এই মুহুর্তে তেমন কোনও আশঙ্কা আছে বলে মনে করছে না আদালত। অনুমানের ভিত্তিতে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। ২৭ তারিখ ভাঙচুরের ঘটনার দিন দুয়েক আগে 25 তারিখ ওই বাড়ির মালিক অভিষেককে আইনি নোটিশ দিয়ে জানান, অফিস খালি করে দিতে হবে । চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে খালি না করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। মালিকের পক্ষে আইনজীবী হাইকোর্টে বলেন “রামা দেবী গোয়েঙ্কা ওই বিল্ডিংয়ের মালিক। রামা দেবীর সঙ্গে অল ইন্ডিয়া যুব তৃণমূল কংগ্রেসের একটা লিজ চুক্তি হয়েছিল ২০২০ সালে 1 মার্চ। তৃণমূলের তরফে দেবরাজ চক্রবর্তী সাক্ষর করেছিলেন চুক্তিতে। 10 বছরের চুক্তি হয় । চুক্তিতে একটির অংশে বলা হয়েছিল মালিক অনুমতি দেবেন। তারপর ছ’তলা ও সাত লায় দখল নিতে পারবে তৃণমূল। কিন্তু এখনও অনুমতি দেওয়া হয়নি । তারপরও জোর করে দখল নেওয়া হয়েছে দুটি তলা । বার বার বলার পরও তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয় কলকাতা পুরনিগমের দিক থেকে কোনও সমস্যা এলে সেটা তারা সামলে নেবে।” তাছাড়া তৃণমূল এতদিন ক্ষমতায় ছিল বলে বাড়ির মালিক কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে । সেই জন্য তাঁরা সাহস পেয়েছেন বলেও আদালতে আইনজীবী দাবি করেন।