শিক্ষক দিবসের মঞ্চ । সামনে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা । সেই মঞ্চ থেকেই শিক্ষক নিয়োগের পুরনো পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ইন্টারভিউয়ে 15 বা 20 নম্বর রাখার প্রয়োজন কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর বক্তব্য, মৌখিকে বেশি নম্বর থাকলে মেধার মূল্যায়নের বদলে পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় । তাই ইন্টারভিউয়ের নম্বর কমিয়ে পাঁচের মধ্যে রাখার পরামর্শ স্কুল সার্ভিস কমিশনকে দিয়েছেন বলে জানালেন তিনি । শনিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান 2026’ প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী । দীর্ঘ দিন ধরে নিয়োগ-জট এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা স্কুল সার্ভিস কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়োগপ্রক্রিয়া কী পথে এগোবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “লিখিত পরীক্ষা পাশ করতে হয় অ্যাকাডেমিকের নম্বর । আর এত নম্বর মৌখিকে রেখেছেন কেন, নিজের লোক ঢোকাবেন বলে ? 15 নাম্বার, 20 নাম্বার ! আমি বলেছি 5 নাম্বারের বেশি মৌখিকে রাখা উচিত নয় । পরামর্শ দিয়েছি এসএসসিকে ।” তবে শুধু ইন্টারভিউয়ের নম্বর কমানোর পরামর্শ নয়, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই নতুন করে সাজানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশন ইতিমধ্যেই নতুন কাঠামোয় প্রস্তুত । কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে মুখ্যসচিব পদমর্যাদার আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে । বাকি সদস্যদের মধ্যেও রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মহারাজ এবং আইআইএম-এর প্রতিনিধিকে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি । কমিশনের নতুন কাঠামোর নিরপেক্ষতা বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি কি আশা করেন মহারাজরা খারাপ কিছু করতে পারেন ?” তাঁর বক্তব্য, যাঁরা সংসারজীবন ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছেন, তাঁদের হাতে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে প্রক্রিয়াটিকে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করেছে সরকার । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁরাই নিয়োগ করবেন ।” নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও একটি পুরনো পদ্ধতি বদলের বার্তাও এ দিন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে আর চাকরি দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি । তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ হবে নির্দিষ্ট পরীক্ষা, মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে । চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথাও বলেছেন তিনি । সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ও গাইডলাইন মেনেই গোটা প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । অতীতের নিয়োগ নিয়ে মামলা, চাকরি বাতিল এবং যোগ্য-অযোগ্য বাছাই নিয়ে তৈরি হওয়া জটের মধ্যেই নতুন করে নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে । ফলে সরকারের ঘোষণা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, সেদিকে নজর থাকবে চাকরিপ্রার্থীদেরও ।