ন’দিন পরই দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে দক্ষিণ 24 পরগনায় ৷ প্রার্থী নিয়ে প্রচারের পাশাপাশি গ্রামস্তরেও প্রায়দিনই বৈঠক করছেন নেতা-কর্মীরা ৷ সেই মতো তৃণমূলের পার্টি অফিসে দলীয় বৈঠক ছিল ৷ সেই বৈঠক সেরে রবিবার রাতে বাড়ি ফিরছিলেন তৃণমূল কর্মী দিব্যেন্দু গায়েন ৷ আচমকা তাঁর উপর চড়াও হয় কিছু দুষ্কৃতী ৷ তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো হয় গুলি ৷ ভোটের কয়েকদিন আগে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ 24 পরগনার গোসাবায় শম্ভুনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূপেন্দ্রপুর এলাকায় ৷ বর্তমানে কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত তৃণমূল কর্মী । স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে দলীয় বৈঠক সেরে মোটরবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন দিব্যেন্দু গায়েন । অভিযোগ, সেই সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা আচমকাই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় । একটি গুলি তাঁর ডান পায়ের উরুতে লাগে । গুলির আঘাতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি । রাতের নীরবতা ভেঙে গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায় । স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দিব্যেন্দুকে উদ্ধার করেন । প্রথমে তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় । হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও চিকিৎসকদের কড়া নজরে রাখা হয়েছে ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিব্যেন্দু গায়েন এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। আগামী 22 এপ্রিল গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের সমর্থনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সভা হওয়ার কথা রয়েছে । সেই সভাকে সামনে রেখে রবিবার সন্ধ্যায় দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন দিব্যেন্দু । বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথেই তিনি হামলার শিকার হন । ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে । আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ৷ প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত । তবে এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় । কোনও পক্ষের অভিযোগই এখনও পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ । অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে । অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চরমে । তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে । তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং ভোটের আগে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে ।