পুনর্বাসন না দিয়েই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। তাদের বিকল্প অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থার কোনও দায় নেয়নি শাসক দল। বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে বিশেষ করে যেখানে হকার বেশি রয়েছে সেই জায়গাগুলিতে তাদের প্রথমে বিকল্প জায়গা খুঁজে দিয়ে তারপর সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সে-সবের তোয়াক্কা না করে কোনওরকম ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না করেই উচ্ছেদের পথে হেঁটেছে। এর প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Park Circus_TMC)। শনিবার পার্ক সার্কাসে দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়-সহ অন্যরা ধরনায় বসেন। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ধরনের উচ্ছেদ এক কথায় নিন্দনীয়। হকারদের মূল দাবি, পুনর্বাসন না-দেওয়া পর্যন্ত হকারদের কোনওভাবেই উচ্ছেদ করা চলবে না। পাশাপাশি রেল হকারদের লাইসেন্স প্রদান এবং বুলডোজার সংস্কৃতি বন্ধ করে বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উচ্ছেদ করার আগে হকারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পুনর্বাসন-সহ সব ব্যবস্থা হকারদের জন্য নিতে হবে প্রশাসনকে। এদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হকারদের জায়গা সরানোর কথা ভাবলেও আগে বিকল্প ব্যবস্থা করে তাদের আয়ের দিকটি সুরক্ষিত করতেন। কিন্তু এই সরকার সেই সমস্ত কিছুর তোয়াক্কা না করেই উচ্ছেদের পথে হাঁটছে। তাঁদের ২৪ ঘণ্টা সময়ও দেওয়া হয়নি। তাঁদের বিকল্প কোনও জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়াও হয়নি যাতে তাঁরা নিজেদের সামগ্রী নিয়ে সেখানে বিক্রি করতে পারেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, হকার উচ্ছেদের নামে, তাঁদের উপর যে অত্যাচার চলছে, তার তীব্র নিন্দা করছে তৃণমূল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ও পরামর্শমতো আমরা রাস্তায় নেমে আন্দোলনে রয়েছি। সাধারণ মানুষের পাশে আমরা সবসময় থাকব। কুণাল ঘোষ বলেন, অনেক হকার রয়েছেন যাঁদের এই দোকানের উপর নির্ভর করে সংসার চলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যেখানে হকার সরিয়েছেন তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করেছেন। যেভাবে স্টেশনে, রাস্তায় হকার উচ্ছেদ চলছে সেখানে আমাদের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য।
১৯৯৯ সালেও তৃণমূল কংগ্রেস (Park Circus_TMC), মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হকারদের পাশে ছিলেন, আর এই ২৬-এও বুলডোজার রাজনীতিতেও নেত্রী সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন।
অন্যদিকে হাওড়া স্টেশনের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভার মঞ্চ খুলে দিল পুলিশ। এমনকী প্রতিবাদ সভা করারও অনুমতি দেওয়া হল না তৃণমূলকে। তবুও আটকানো গেল না তৃণমূলকে। রাস্তার ওপরেই বিধায়ক ও তৃণমূলের হাওড়া সদরের চেয়ারম্যান অরূপ রায় এবং হাওড়া সদর মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী ও বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরির নেতৃত্বে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হল। ওই বিক্ষোভ সভা থেকে সর্বস্বান্ত হকারদের পাশে থাকারও বার্তা দিলেন হাওড়া সদর তৃণমূল নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার হাওড়ায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু ওইদিন হাওড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার কারণ দেখিয়ে ওই কর্মসূচির অনুমোদন দেয়নি পুলিশ। শুক্রবার ফের ওই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। সেই অনুযায়ী পুলিশকে দলের তরফে লিখিত জানানোও হয়। হাওড়া স্টেশনের বাইরে সভা করার জন্য মঞ্চও বাঁধা হয়। কিন্তু এদিনও অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে পুলিশের তরফে মঞ্চ খুলে দিয়ে কর্মসূচি পালনের অনুমতি বাতিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও দমে যায়নি তৃণমূল। দলের দুই বিধায়ক অরূপ রায় ও নন্দিতা চৌধুরির নেতৃত্বে খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ওপরেই বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। ছিলেন জগৎবল্লভপুর কেন্দ্র তৃণমূলের সভাপতি সুবীর চট্টোপাধ্যায়-সহ বিভিন্ন ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন হাওড়া স্টেশন চত্বরে সর্বস্বান্ত হওয়া হকাররা। বিধায়ক অরূপ রায় বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে হকারদের পাশে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে। তবুও আমাদের আটকাতে পারবে না। হকারদের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে আমরা ওঁদের পাশে সবসময় আছি। পুলিশ যতই চেষ্টা করুক। আমাদের রুখতে পারবে না। সমস্ত ঘটনা আমরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাব। দলের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

