নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে পৌঁছলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন এবং আইনজীবী তথা লোকসভা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত শীর্ষ স্থানীয় নেতা-নেত্রীরা ৷ ছিলেন বিঘায়ক কুণাল ঘোষও ৷ এদিন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আইনজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার নথিপত্রে প্রয়োজনী স্বাক্ষর করতে আদালতে এসেছিলেন তিনি ৷ গত 23 ও 29 এপ্রিল দু’দফায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয় ৷ দ্বিতীয় দফায় হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ সকাল থেকেই দুই নেতা-নেত্রীকে কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে ঘুরতে দেখা যায় ৷ পরে 4 মে ফল ঘোষণায় জানা যায় ভবানীপুরে মমতাকে 15 হাজার 105টি ভোটে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী ৷ তৃণমূল নেত্রী পেয়েছিলেন 58 হাজার 812 ভোট, প্রাপ্য ভোটের হার 42.19 ৷ অন্যদিকে শুভেন্দু পেয়েছিলেন 73 হাজার 917 ভোট, যা মোট ভেটের 53.02 শতাংশ ৷ এই ফলাফল নিয়ে প্রথম থেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী ৷ ফল ঘোষণার দিন বারবার থমকে যাচ্ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগণনা ৷ তার কারণ জানতে বিকেলে নিজে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে হাজির হন মমতা ৷ প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বাদে সেখান থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, “3টে থেকে ওখানে আমাদের মারধর করা হয়েছে ৷ আমাকেও মেরেছে ৷ আমাকে লাথি মেরেছে ৷ সিসিটিভি অফ করে দিয়েছে ৷ আমি সবজায়গায় অভিযোগ করেছি ৷” মঙ্গলবার ভরদুপুরে আচমকাই তৃণমূল নেত্রীকে হাই কোর্টে পৌঁছতে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল দেখা যায় অনেকের মধ্যেই। পরে মমতার আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুর নিয়ে ইলেকশন পিটিশন করেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ওই সংক্রান্ত বিষয়েই হলফনামা দাখিল করেছেন।