​রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস । আর সেই আবহে দ্বাদশ যোগ দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে এক নজিরবিহীন ও আড়ম্বরপূর্ণ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে । কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম এত বড় মাপের কোনও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আয়োজন হতে চলেছে রাজ্যে । স্বাভাবিকভাবেই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে । বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ রাজ্যের জন্য টানা তিনদিনের এক বর্ণাঢ্য কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন । তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রাচীন ভারতের এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে এবং তাকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ করে তুলতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না বর্তমান রাজ্য সরকার । এই বিশাল আয়োজনের প্রতিটি ধাপে থাকছে অভিনবত্বের ছোঁয়া ।

​মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, তিনদিনের এই উৎসবের সূচনা হতে চলেছে আগামী 19 জুন একটি মেগা ম্যারাথনের মধ্যে দিয়ে । যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘রান ফর যোগা’। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই এই দৌড়ের আয়োজন করা হচ্ছে । তবে মূল আকর্ষণ থাকছে তিলোত্তমায় । জানা গিয়েছে, কলকাতার মোট 11টি জায়গায় এই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে । এর মধ্যে প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরসভার সদর দফতরের সামনের রাস্তাকে । সেখান থেকে দৌড় শুরু হয়ে শেষ হবে ঐতিহ্যশালী রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণের সামনে ।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মূল কর্মসূচির জন্য কলকাতার একটি জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে । কলকাতা কর্পোরশনের সামনে থেকে শুরু হবে, শেষ রাইটার্সে । ইতিমধ্যেই নাম নথিভুক্ত করেছেন অনেকে । সকাল 6.30টায় সমবেত হবেন সকলে । সাতটায় কার্যক্রম শুরু হবে ।” তবে ভিড় হলেও যাতে কোনও রকম বিপত্তি না ঘটে, তার জন্য আমজনতাকে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি এবং নিয়মকানুন মেনে এই ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । পুলিশ ও প্রশাসনের তরফ থেকেও নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা । ​তিনদিনের এই মেগা ইভেন্টের দ্বিতীয় দিনটি, অর্থাৎ 20 জুন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । ওই দিনটি আবার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবেও পরিচিত । এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে গঙ্গার বুকে এক অভাবনীয় প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করেছে রাজ্য প্রশাসন । যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বন্দে যোগম’। পড়ন্ত বিকেলে নদীর বুকে আধুনিক প্রযুক্তির এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করা হবে ।প্রশাসন সূত্রে খবর, সন্ধ্যার আকাশে একসঙ্গে উড়বে তিন হাজার ড্রোন । ড্রোনের আলোর বর্ণচ্ছটায় ফুটে উঠবে যোগাভ্যাসের নানা মুদ্রা এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির খণ্ডচিত্র । প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যের এমন অপরূপ যুগলবন্দি আগে কখনও দেখেনি শহরবাসী । মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, “20 জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস । ওইদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অভিনব কর্মসূচি । গঙ্গা বক্ষে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এক অন্য পরিবেশ তৈরি করা হবে । এই কর্মসূচির নাম ‘বন্দে যোগম’। কলকাতার আকাশে উড়বে তিন হাজার ড্রোন ।”​উদযাপনের চূড়ান্ত পর্বটি অনুষ্ঠিত হবে 21 জুন, মূল আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের সকালে । ওইদিন গোটা রাজ্য জুড়েই চলবে যোগাভ্যাস । তবে আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে কলকাতার রেড রোড । কারণ, সেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “21 তারিখ রাজ্যজুড়ে পালিত হবে যোগ দিবস । মূল অনুষ্ঠান হবে রেড রোডে । 6.15 মিনিটে জমায়েত, আধ ঘণ্টা পর শুরু হবে মূল কর্মসূচি । সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ।” হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যোগাভ্যাস করবেন । ভিভিআই পি নিরাপত্তার কারণে এখন থেকেই রেড রোড চত্বরে কড়া নজরদারি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ।​যোগ দিবসের এই বিপুল আয়োজনের পাশাপাশি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি রাজ্যবাসীর কাছে এক বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন । শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছ ভারতের অন্তর্গত স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ বান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে ঐতিহাসিক কলকাতা শহরে স্বাগত জানাতে চাই । তাই সকলে নিজের এলাকা পরিষ্কার করুন ।”