গাজার একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় অন্তত পাঁচশো মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলছেন এই ঘটনা কীভাবে হল তা তাদের জানা নেই, তারা খোঁজ নিচ্ছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের প্রধান আল জাজিরা টেলিভিশনকে বলেছেন, মঙ্গলবার আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতালে ওই হামলায় তিনশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫০০। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, ওই হাসপাতালে বোমা ফেলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের হাতে নেই। এর আগে একটি স্কুলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর দেয় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। গত কয়েক দিনে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ওই স্কুল ভবনকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। হাসপাতালে বিমান হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের অধিকাংশও গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা। নিরাপত্তার আশায় তারা হাসপাতালের একটি হল এবং বাইরের মাঠে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাসপাতালে ওই হামলার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর গাজায় হামাস কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র এ ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’আখ্যায়িত করেছেন। হামাস বলেছে, “শত শত অসুস্থ ও আহত মানুষ ছিল ওই হাসপাতালে। ঘরহারা অনেক মানুষও সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। এখনও শত শত মানুষ হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া হাসপাতাল ভবনে আগুন জ্বলছিল। তার মধ্যেই রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় অনেককে স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। হসপাতালের বাইরে রাস্তার ওপরও লাশ আর ভাঙাচোরা যানবাহন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রায় চার হাজার মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। বিমান হামলার পর হাসপাতালের ৮০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কয়েকশ মানুষ হতহাহত হয়েছে বলে তার ধারণা। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন বলে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।