পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগের পারদ চড়ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, শুক্রবার অর্থাৎ ২৭ মার্চ প্রকাশিত হতে পারে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এই তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে মোট নাম বাদ পড়ার সংখ্যা এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারে। বিচারাধীন তালিকার নিষ্পত্তি হওয়া নামগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই বাদ দেওয়ায় নতুন করে আশঙ্কার মেঘ দেখছে রাজনৈতিক মহল।

পরিসংখ্যানের বিবর্তন: এক নজরে

ভোটার তালিকার এই বিশাল পরিবর্তনের গতিপথটি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় কেন এই আতঙ্ক:

  • অক্টোবর ২০২৫: রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ।
  • ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ (খসড়া তালিকা): প্রথম ধাপেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যায়।
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (চূড়ান্ত তালিকা): আরও ৫.৫ লক্ষ নাম কাটা যায়।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘জুডিশিয়াল স্ক্রুটিনি’ বা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বিচারাধীন তালিকার ৩৬ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে ৩২ লক্ষের যে পরিসংখ্যান বুধবার মিলেছিল, তাতে দেখা গিয়েছিল প্রায় ১৩ লক্ষ (৪০%) নাম বাদ পড়েছে। হিসেব বলছে, বাকি থাকা ২৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তিও যদি একই হারে হয়, তবে আরও প্রায় ১১ লক্ষ নাম কাটা যাবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র এই পর্যায় থেকেই মোট ২৪ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা।

যদি প্রাথমিক খসড়া থেকে শুরু করে বর্তমানের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা পর্যন্ত সমস্ত ডিলিশন যোগ করা হয়, তবে সংখ্যাটি দাঁড়াতে পারে:

৫৮ লক্ষ (খসড়া) + ৫.৫ লক্ষ (চূড়ান্ত) + ২৪ লক্ষ (সাপ্লি সম্ভাব্য) = ৮৭.৫ লক্ষ (প্রায়)

এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ গেলে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৮০ লক্ষের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ, মোট ভোটারের প্রায় ১১ শতাংশেরও বেশি নাম বাদ পড়ার মুখে।

যাঁদের নাম এই তালিকায় বাদ পড়ছে, তাঁদের জন্য ‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল’-এ আবেদনের সুযোগ থাকছে। যদিও এই ট্রাইব্যুনালগুলি জেলাস্তরে ঠিক কবে থেকে পুরোপুরি সচল হবে, তা নিয়ে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে কলকাতা হাইকোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এই নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় চলছে।

আজকের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর কোন জেলায় সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়ল, তা নিয়ে জনমানসে প্রবল কৌতূহল রয়েছে।