প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা থেকে প্রায় সাড়ে চারশো মোবাইল চুরি হয়েছে ৷ এই ঘটনা সামনে আসতেই উত্তাল আসানসোল । বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত হিরাপুর থানা ঘেরাও করলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা । তাঁদের দাবি, পুলিশ অভিযোগ নিতে চাইছে না । শুধু তাই নয়, তার পাশাপাশি ১০ জন মোবাইল চোরকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তাঁরা ৷ তারপরেও নাকি পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি । বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের সঙ্গ দিতে থানায় পৌঁছন আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল । অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সভায় এই মোবাইল চুরিকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটকও । বৃহস্পতিবার আসানসোলের পোলো ময়দানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা ছিল । পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার বেশ কয়েকটি বিধানসভা নিয়ে এই প্রচারধর্মী জনসভায় অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী । বিরাট ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, সোনার চেন-সহ বিভিন্ন দামি জিনিস চুরি করে বলে অভিযোগ । এর মধ্যে বেশ কয়েকজন চোরকে বিজেপি কর্মীরা হাতেনাতে ধরেও ফেলে বলে তাদের দাবি । তাদেরকে হিরাপুর থানায় তুলে দেওয়া হয়েছে । পুলিশ বেশ কয়েকটি মোবাইলও ইতিমধ্যে উদ্ধার করতে পেরেছে । কিন্তু বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ গতকাল দুপুর থেকে মোবাইল চুরির ঘটনার পর পুলিশ বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করেছে । প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি । যারা চুরির অভিযোগ করতে গিয়েছে তাদেরকে লিখতে বাধ্য করা হয়েছে ‘হারিয়ে গিয়েছে’ এমন কথা । হিরাপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে বেশ কয়েকটি মোবাইল চুরির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে । কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে । ইতিমধ্যেই বেশ কিছু মোবাইল উদ্ধার হয়েছে । ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ । বিজেপি কর্মী সোমনাথ মণ্ডল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সভা হচ্ছে । দেশের সর্বোচ্চ নেতা তিনি । অথচ তার সভাতেই পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারছে না । সেখানে দুষ্কৃতীরা ঢুকে মোবাইল চুরি করছে । তাহলে পুলিশ সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেবে কি করে ? শুধু তাই নয়, পুলিশ অভিযোগ পর্যন্ত নিতে চাইছে না । মোবাইল হারানো এক বিজেপি কর্মী ঝুলন মাজির কথায়, “আমি নরেন্দ্র মোদিকে দেখতে গিয়েছিলাম । কিন্তু সেখানে আমার মোবাইল চুরি হয় । আমি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারকে জানাই । কিন্তু তিনি বলেন, আমার কিছু করার নেই । এরপর আমি সাইবার ক্রাইম দফতরে যাই । সেখানে বলে আমাকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে । আমি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ প্রথমে আমার অভিযোগ নেয় না ৷ পরবর্তীকালে আমি আমার মোবাইলের সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে এসে অভিযোগ দায়ের করেছি । কিন্তু মোবাইল ফেরত পাইনি ।” বিষয়টি জানতে পেরেই হিরাপুর থানার পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে যান আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল । অন্যদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী মলয় ঘটক বিষয়টিকে চরমভাবে কটাক্ষ করেছেন । তাঁর কথায়, “নরেন্দ্র মোদির সভায় প্রায় সাড়ে ৪৫০ মোবাইল চুরি হল । অর্থাৎ, এর থেকে বোঝা যায় এই সভায় কারা গিয়েছিল এবং এই দলটা কাদের নিয়ে চলছে । আমি তো শুনেছি বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকেও নাকি আটক করা হয়েছে ।”