শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় আততায়ীরা যে গাড়ি ব্যবহার করেছে তাতে শিলিগুড়ির নম্বর প্লে দেওয়া ৷ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় শহরে ৷ ‘আসল’ মালিক বললেন, গাড়ি তো শিলিগুড়িতে রয়েছে ৷ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক খুনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করা গাড়ির নম্বর প্লেট থেকে গাড়ি মালিকের হদিশ মেলে । ব্যবহৃত গাড়িতে যে নম্বর প্লেটটি রয়েছে, তদন্ত করে দেখা যায় সেটির মালিক শিলিগুড়িতে । এরপরই রাতারাতি শিলিগুড়ি কমিশনারেটের পুলিশকে পদক্ষেপের নির্দেশ দেন ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা । তদন্তে জানা যায়, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত মাটিগাড়ার হালের মাথা নামক এলাকার বাসিন্দার ওই একই নম্বরের গাড়ি রয়েছে । সেই গাড়ি মালিককে রাতারাতি থানায় ডেকে পাঠানো হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য । তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যায়, সেই গাড়ির মালিক উইলিয়াম জোসেফ । তিনি একজন চা-বাগানের কর্মী । টি টেস্টিং ম্যানেজার । দু’সপ্তাহ আগে তিনি গাড়িটি বিক্রির উদ্দেশ্যে অনলাইন বিপণন সংস্থা (OLX) এ বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন । সেই গাড়ি এখনও তার বাড়িতেই রয়েছে । সেই বিজ্ঞাপন থেকেই হয়ত গাড়ির নম্বর সেখান থেকেই লিক হয়েছে ৷ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয় ৷ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনে ব্যবহৃত গাড়ির নম্বরপ্লেট ও ইঞ্জিন নম্বর ভুয়ো। কারণ এই নম্বর প্লেটের গাড়ির আসল মালিক উইলিয়াম শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়ির বাসিন্দা ৷ তবে বর্তমানে তিনি শিবমন্দিরের হালের মাথায় থাকেন । আরটিও মারফত যখন গাড়ির নম্বর মিলিয়ে দেখা হয় তখন শিলিগুড়ির ঠিকানা পাওয়া যায় । রাতারাতি মাটিগাড়া থানার পুলিশ উইলিয়ামকে ফোন করেন এবং তাকে শিলিগুড়ির কাছাকাছি কোনও একটি জায়গা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে শিলিগুড়ি প্রধাননগর থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন । যদিও বা উইলিয়াম তার সেই গাড়ির নথি, সবটাই পুলিশকে দেখান । সবটা দেখে তারপরেই উইলিয়ামকে সেখান থেকে ছাড়া হয় ৷ গাড়ির মালিক জোসেফ জানান , “রাতেই পুলিশ আমাকে ডেকে নিয়ে যায় । জিজ্ঞাসাবাদ করে ৷ আমি সব নথি দেখালে তারপর আমাকে ছেড়ে দেয় ৷ তখনও আমি কিছুই জানতাম না কেন পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসা করছে ৷ পরে খবরে এই ঘটনার কথা জানতে পারি । আমার গাড়ির নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে । অথচ গাড়ি আমার কাছেই রয়েছে । একটা বড় অপরাধ হয়েছে । কিছুটা হলেও আতঙ্কে রয়েছি ।”অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দীপঙ্কর অরোরা । শুভেন্দু উত্তরবঙ্গে আসলেই তিনি তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী ৷ চন্দ্রনাথ রথ খুন হওয়ার পরই দীপঙ্কর অরোরা ওরফে মানিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয় পুলিশ কমিশনারেট । রাতেই তার বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ । এই বিষয়ে দীপঙ্কর আরোরা বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে তা নিন্দনীয় । যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আমাদের সরকার কড়া পদক্ষেপ করবে । আমাকেও পুলিশ প্রশাসনের তরফে সতর্ক করে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে । কিন্তু আমি মানা করে দিয়েছি । তবে চলেফেরার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে । সেগুলো মাথায় রাখব ।”