এক ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলার রাজনীতি । ভোটে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এদিকে ৭ মে অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই শেষ হচ্ছে বর্তমান সরকারের মেয়াদ ৷ সে ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে নতুন সরকার গঠনের আগে পর্যন্ত বাংলার দায়িত্বে কে, তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল তুঙ্গে ৷ সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে রাজভবনের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে এই সরকারের মেয়াদ রয়েছে ৬ মে রাত্রি ১২টা পর্যন্ত। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত বারোটার পর সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে । সেক্ষেত্রে রাজভবনের তরফে আগামিকাল শুক্রবার নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে নতুন সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানানো হবে । এরপর সংশ্লিষ্ট দল রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ জমা করবেন। এরপরই ঠিক হবে পরবর্তীতে নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত সরকার কার দায়িত্বে থাকবে । যেহেতু এখনও বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়নি, তাই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে রাজভবন এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, স্বাধীনতার পর বাংলার ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি কার্যত নজিরবিহীন । সাধারণত নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে নিজের এবং মন্ত্রিসভার ইস্তফাপত্র জমা দেন । তারপর নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । কিন্তু এবার সেই চিরাচরিত প্রথা ভেঙে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর অভিযোগ ছিল, গণতান্ত্রিকভাবে নয়, বরং ‘চক্রান্ত করে’ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে । সেই কারণেই তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন । তাঁর এই অবস্থান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র সাংবিধানিক বিতর্ক শুরু হয় । প্রশাসনিক মহলেও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা । অবশেষে সেই অচলাবস্থার ইতি টানতেই রাজ্যপাল সরাসরি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল । ইতিমধ্যে সরকারের মেয়াদ শেষের বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে ৷ সেক্ষেত্রে রাত ১২টার পর বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ, আগের সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তিই আর রইল না । ফলে মুখ্যমন্ত্রী পদেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর বহাল থাকা সম্ভব নয় ।

