ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই আবহে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গির খানের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তৃণমূল কংগ্রেসের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত 4 মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে শুধুমাত্র ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই দলের 100 জনের বেশি কর্মীকে গ্রেফতা র করা হয়েছে। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে একাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, বন্ধ এবং জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে বলে ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ। দলের দাবি, বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে ক্রমাগত নীরব থেকেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই ধরনের প্রবল চাপের মুখেও তৃণমূল কর্মীরা অবিচল রয়েছেন এবং এজেন্সি ও প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপির তৈরি করা ভয়ের পরিবেশের বিরুদ্ধে তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, এই চাপের কাছে নতিস্বীকার করে কেউ কেউ ময়দান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, দল এই ধরনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করছে। বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের এই লড়াই পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি- উভয় স্থানেই অব্যাহত থাকবে বলে দলীয় বিবৃতিতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জাহাঙ্গির খানের এই সরে দাঁড়ানো নিয়ে কুণাল ঘোষ নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জনপ্রিয় সিনেমার সংলাপ টেনে এনে তিনি বলেন, “পুষ্পা, সে তো ঝুকেগা নেহি! পুষ্পা ভয় পাবে কেন?” তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সেখানে আদৌ ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল কি না, আর যদি ভয়ের পরিবেশ হয়েও থাকে, তবে ‘পুষ্পা’ কেন ভয় পেল, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। কুণাল ঘোষ আরও মনে করিয়ে দেন যে, এই এলাকাটি ডায়মন্ড হারবার মডেল এলাকার অন্তর্গত। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওই কেন্দ্রে মাননীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন এবং নিশ্চয়ই তিনি গোটা বিষয়টি নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। কুণালের কথায়, এই ব্যাপারটা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই সবথেকে ভালো বলতে পারবেন। সব মিলিয়ে, ফলতা উপনির্বাচন থেকে জাহাঙ্গির খানের এই হঠাৎ সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। একদিকে দল যখন একে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে দায় এড়াচ্ছে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য জল্পনা আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।