উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির প্রশাসনিক কাজ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা করতে শিলিগুড়ি পৌঁছলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । বুধবার কলকাতা থেকে বিশেষ বিমানে তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দরে আসেন । লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গে এটাই তাঁর প্রথম বড় প্রশাসনিক সফর ৷ আর বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন প্রতিমাসে তিনি উত্তরবঙ্গে আসবেন ৷ এমনকী উত্তরকন্যা সচিবালয়ে বসবেন বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী ৷ এদিন বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন এবং ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু । এছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী ও সমর্থক বিমানবন্দর চত্বরে মুখ্যমন্ত্রীকে ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে জমকালো অভ্যর্থনা জানান । বিমানবন্দর থেকে বেরনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও আপসহীন বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন, “আমি প্রথম দিনই বলেছি তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি, সিন্ডিকেটরাজ, আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে গরিব মানুষের রক্ত চোষা, এটা আমাদের সরকার কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করবে না । অপরাধী কোন দলের, তার পরিচয় কী, সেটা দেখার দায়িত্ব পুলিশের নয় । পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে, আইন তার নিজের পথে চলবে ।” রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা এবং বিগত দিনের ঘটনা নিয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, “যারা ভাবছেন আগের সরকারের মতো বা পুরনো অভ্যাসবশত অপরাধ করেও পার পেয়ে যাবেন, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন । প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা হচ্ছে । সরকারি জমি দখল করা বা সাধারণ ব্যবসায়ী ও চা শ্রমিকদের ওপর জুলুমবাজি রুখতে পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হয়েছে । আইন ভাঙলে সে যেই হোক না কেন, তাকে শ্রীঘরে যেতেই হবে ।” উত্তরবঙ্গ সফর এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক বৈঠক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন । পাহাড় সমতল মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD) এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সমন্বয় ঘটিয়ে কীভাবে কাজ দ্রুত শেষ করা যায়, তা নিয়ে আমি মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং আধিকারিকদের সঙ্গে বসব । মানুষ শান্তি ও উন্নয়ন চান, আমরা সেটাই নিশ্চিত করব ।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রী কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সড়কপথে শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়িস্থিত কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন । বিমানবন্দর থেকে মাল্লাগুড়ি পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো ।

