রাজ্যের বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার নীতি’, হকার উচ্ছেদ এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে বুধবার বিধানসভা চত্বরে ধরনায় বসল তৃণমূল কংগ্রেস । বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক বিধায়ক ও শীর্ষ নেতা । তবে এই কর্মসূচির মধ্যেও বেশ কয়েকজন বিধায়কের অনুপস্থিতি ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের ফাটল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে । এ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা উচ্ছেদে শাসকদল বিজেপি ‘বুলডোজার নীতি’ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল । তাদের অভিযোগ, গরিব মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নেবে এই পদক্ষেপ ৷ একে স্বৈরাচারী ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়ে এদিন বিধানসভার বাইরে ও ভিতরে একযোগে সরব হন বিরোধী বিধায়করা । মূলত চারটি ইস্যুকে সামনে রেখে এদিনের ধরনা কর্মসূচি পালিত হয় । প্রথমত, নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসে আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের রক্ষা ও অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ । দ্বিতীয়ত, রাজ্যের সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকার সুরক্ষিত রাখা । তৃতীয়ত, বিকল্প ব্যবস্থা বা বিনা পুনর্বাসনে হকার উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং চতুর্থত, পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ । বিক্ষোভকারী বিধায়কদের বার্তা, বাংলার মাটি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার মাটি, এখানে বুলডোজার চালিয়ে রুজি-রুটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না । বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না-হওয়ার পর থেকে তৃণমূল নেতৃত্বকে সেভাবে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে দেখা যায়নি । দলীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার কালীঘাটে আয়োজিত দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেশ কয়েকজন বিধায়ক । তাঁদের বক্তব্য ছিল, শুধুমাত্র চার দেওয়ালের ঘেরাটোপে বৈঠক করে দলকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয় । হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে সিপিএম যখন ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমেছে, তখন তৃণমূল কেন পিছিয়ে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা । ওই বৈঠকেই আগামী 21 মে থেকে বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল । কিন্তু তার আগেই বুধবার তড়িঘড়ি বিধানসভায় ধরনায় বসেন দলের নেতারা । এদিনের কর্মসূচিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা অংশ নিলেও চোখে পড়েছে দলের বহু বিধায়কের অনুপস্থিতি । বেশ কয়েকজন বিধায়ক এই ধরনায় যোগ দেননি বলে সূত্রের খবর । যদিও দলের তরফে সাফাই দেওয়া হয়েছে, বেশ কিছু বিধায়ক এদিন নিজেদের জেলায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছেন বলেই বিধানসভায় উপস্থিত হতে পারেননি । কুণাল ঘোষ বলেন, “আজ বিধায়কদের একটা অংশ যখন এই আম্বেদকার মূর্তির পদতলে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তখন অন্য আরেকটি দল আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন । এভাবেই কাজ করছে তৃণমূল কংগ্রেস ।”

