লোকসভায় তৃণমূলের ভাঙন যে হতে চলেছে, তা চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে বিভিন্ন ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছিল৷ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, শর্মিলা সরকারের মতো সাংসদরা প্রকাশ্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন৷ তার পরও ধোঁয়াশা ছিল তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা নিয়ে৷ শুক্রবার সেই বিষয়টিই স্পষ্ট হল৷ প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের বিদ্রোহী 19 জন সাংসদের নাম৷ জানা গিয়েছে, নতুন এই বিদ্রোহী ব্লকের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রকাশ্যে আসা ওই কাগজে সবার প্রথমেই তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে এবং পাশে লেখা রয়েছে ‘মুখ্যসচেতক’ বা চিফ হুইপ। ক্রমতালিকা অনুযায়ী ঠিক তাঁর নিচেই ‘ডেপুটি লিডার’ হিসেবে সই করেছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। এই ফাটলের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান, মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, কলকাতা দক্ষিণের মালা রায় এবং আরামবাগের মিতালি বাগের নাম। এছাড়াও স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান, মথুরাপুরের বাপি হালদার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বোলপুরের অসিত মাল, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার এবং অরূপ চক্রবর্তী। এদিকে কিছুদিন আগেই ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব সংবাদমাধ্যমের সামনে ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখে দাবি করেছিলেন যে তিনি তৃণমূল নেত্রীর পাশেই আছেন। কিন্তু দলত্যাগী তালিকার এই চিঠিতে তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলের যাবতীয় সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের সই মূল তালিকার সঙ্গে না থেকে একটি পৃথক জায়গায় রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, তাঁরা হয়তো মূল দলটির পরে গিয়ে এই নথিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এছাড়া, জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের নাম এই দলত্যাগী তালিকায় থাকতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। তিনি নিজে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তাঁর নাম থাকার প্রমাণ প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছিলেন। শেষমেশ দেখা যায়, ওই তালিকায় তাঁর কোনও নাম বা সই নেই।
সূত্রের খবর, গত 18 মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রাথমিক তালিকা পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় 20 জনের কথা বলা হলেও, সম্প্রতি যে নথির প্রতিলিপি প্রকাশ্যে এসেছে (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি), তাতে 19 জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই তালিকায় এমন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট তারকা জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে, যাঁরা এতদিন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। যদিও স্পিকারের সচিবালয়ের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

