প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে শহরের পুর প্রশাসন । তারই একটি ‘দৌড় সে ধ্যান’। আজ সেই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । ছিলেন দেশের আয়ুষ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতাপ রাও যাদব । এছাড়াও ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, ছিলেন জ্যোতির্ময়ী শিকদার, বুলা চৌধুরী, লিয়েন্ডার পেজ-সহ অনেকে । ছিলেন কলকাতার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডেও ।

শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কলকাতা পুরনিগম (KMC) সদর দফতর থেকে রাইটার্স বিল্ডিং পর্যন্ত প্রায় 2 কিলোমিটার দীর্ঘ এই দৌড়ে শত শত মানুষের পাশাপাশি মন্ত্রীরাও অংশ নেন ৷ ফিটনেস এবং সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কলকাতা জুড়ে যে 11টি ‘যোগা রান’-এর আয়োজন করা হয়েছিল, এটি ছিল তার মধ্যে অন্যতম । এদিন কলকাতা কর্পোরেশনের মূল ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় ম্যারাথন । যার আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছিল দৌড় সে ধ্যান । সেই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এই ম্যারাথনে পা মেলান । ধর্মতলার একাধিক রাস্তা অতিক্রম করে এই ম্যারাথন শেষ হয় রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন মহাকরণের কাছে । এদিন অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পা মেলান । ছিলেন বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরাও । দৌড় শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি যোগব্যায়াম সেশনেও অংশ নেন । সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “যোগব্যায়াম শারীরিক সুস্থতা, মানসিক ভালো থাকা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রসারে একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে ।” তিনি মানুষকে তাদের দৈনন্দিন রুটিনে যোগ ব্যায়ামকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান । এক্স পোস্টে তিনি লেখেনে, “ফিটনেস ও সুস্থতার লক্ষ্যে দৌড়াচ্ছে ‘সিটি অফ জয়’। 2026 সালের 12তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রাক্কালে, আজ সকালে কলকাতায় আমি ‘সিটি অফ জয় – দৌড় থেকে ধ্যান 2026’ (City of Joy – Daud Se Dhyan 2026) ম্যারাথনের সূচনা করলাম । স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং সামগ্রিক সুস্থতার মতো মূল বিষয়গুলোকে এই চমৎকার উদ্যোগটি একসূত্রে গেঁথেছে ৷” তিনি আরও জানান, নাগরিকদের বিপুল উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল । এদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায় তৃণমূল কাউন্সিলরকে ৷ বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) কাউন্সিলর অসীম বসু এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং কলকাতার বাসিন্দাদের কল্যাণে গৃহীত উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি সমর্থন জানান । তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত ভালো একটি বিষয় এবং আমরা সবাই মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এখানে এসেছি । জনগণ ও রাজ্যের স্বার্থে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব । কর্পোরেশনের যে কোনও কাজে আমরা সর্বদা সহযোগিতা করব । আমরা জনগণের জন্য, আমাদের বাংলার জন্য এবং কলকাতার মানুষের জন্য এই কাজ করব ।” এ বছর পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় স্তরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনের আয়োজন করছে ৷ 21 জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শহরের রেড রোডে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন । এ বছরের উদযাপনের মূল বিষয়বস্তু বা থিম হল, “এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য-এর জন্য যোগ” (Yoga for One Earth, One Health)। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার যোগ শিবির, সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মতো একাধিক কার্যক্রমের আয়োজন করেছে ।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানাব । শনিবার সূর্য ডোবার পর 500 নৌকায় বিশেষ যোগ কর্মসূচি পালন হবে । উৎসাহী মানুষজনকে তিনি গঙ্গাপাড়ে উপস্থিত হয় সেই সুন্দর দৃশ্য দেখা ও মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্য আহ্বান করেন । এই কর্মসূচিতে সন্ধ্যায় ঋষি মুনিরা অংশ নেবেন । ড্রোনের মাধ্যমে রাতের আকাশকে আলোকিত করা হবে কলকাতায় । সেই দৃশ্যের সাক্ষী থাকবেন মহানগরের লাখো লাখো মানুষ । 12তম যোগ দিবসের মেগা ইভেন্ট হবে কলকাতায় । নেতৃত্ব দেবেন নরেন্দ্র মোদি ।”