আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মহুয়ার অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ। অথচ তিনি কয়েকদিন আগে যে অভিযোগ করেছেন সেটায় কোনও গুরুত্ব দেয়নি। এভাবেই পুলিশের ভুমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এমতাবস্থায় কৃষ্ণনগরের সাংসদে আর্জি তাঁকে রক্ষাকবচ দিক আদালত। উল্লেখ্য, ঠিক দু’দিন আগে মহুয়া মৈত্রর কৃষ্ণনগরের পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা ভিড় করে। তাঁকে লক্ষ করে ডিম ছোড়া হয়। এই ঘটনায় আগেই সোশাল মিডিয়াতে ক্ষোভ ব্যাক্ত করেছিলেন। পুরো ঘটনাটির ভিডিয়ো প্রকাশ করেন সাংসদ ৷ সেখানে দলীয় দফতরের একটি জানলা থেকে তাঁকে তৃণমূলের পতাকা নাড়তেও দেখা যায় ৷ সেখান থেকে রাজ্য পুলিশের ডিজি থেকে শুরু করে অন্য শীর্ষ কর্তাদের ফোন করে ব্যববস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন বলেও দবি করেছেন মহুয়া ৷ এবার তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের উপর ডিম ছোড়া, কোমড়ে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর মতো ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে সরব হয়েছেন নেতা নেত্রীরা। পাশাপাশি আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চ পুলিশের ডিজিকে অবিলম্বে এই আচরণ বন্ধ করতে গাইডলাইন তৈরি করে তা প্রচার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও এই ঘটনা বন্ধ হয়নি। দু’দিন আগেই মহুয়া মৈত্রর কৃষ্ণনগরের পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তাঁর গায়ে ডিম ছুড়ে মারা হয়। সাংসদের দাবি সেই ঘটনায় তিনি যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাতে পুলিশ পদক্ষেপ করছে না। অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য ঘটনায় এফয়াইয়ার দায়ের হয়েছে। তাতে পুলিশ সক্রিয়। পুলিশের এই ভুমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মহুয়া । ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ দেখানোর ঘটনা গত মাস দুয়েকের মধ্যে বিশেষ ‘জনপ্রিয় ‘ হয়েছে ৷ আদালতের বিচারপতি থেকে শুরু করে আইন বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে যতই প্রশ্ন তুলুন না কেন ডিম ছোড়া থেকে ভিড়কে কিছুতেই বিরত করা যাচ্ছে না ৷ মে মাসের শেষে সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর বাড়ি গেলে জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক ৷ পাথরের পাশাপাশি উড়ে আসে ডিমও ৷ সেই শুরু ৷ তারপর প্রাক্তন শাসক শিবিরের নেতাদের ‘ডিম খাওয়ার’ তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে ৷

