বারুইপুরে নাবালিকার নৃশংস খুনের ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ! রবিবার মৃত নাবালিকার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে এসেছে ৷ ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন হেনস্থা ও মাথায় আঘাতের ইঙ্গিত মিলেছে ৷ ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে নাবালিকার ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন এবং তার ওপর যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। রবিবারই ক্ষতবিক্ষত নিথর নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, নাবালিকার মাথায় ক্ষত রয়েছে। পাশাপাশি, যৌনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মামলার আইনি কাঠামো আরও কঠোর করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নাবালিকাকে অ্যান্টিমোর্টেম ড্রাউনিং অর্থাৎ মাথায় আঘাতের করে অচেতন অবস্থায় তাকে পুকুরে ফেলা হয়। ওই নাবালিকার পাকস্থলী ও ফুসফুসে জল মিলেছে। মাথার ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবেই শেষ পর্যন্ত নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। শুধু তাই নয়, রিপোর্টে বলা হয়েছে, যখন তাকে পুকুরে ফেলা হয়েছিল, তখনও সে বেঁচে ছিল। শুরুতে ঘটনায় শুধুমাত্র খুনের মামলা দায়ের করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় মামলায় পকসো (POCSO) আইনের কঠোর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, নাবালিকার উপর যে অত্যাচার চালানো হয়েছে, তা বিচার করে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই একের পর এক আইনি ধারা সংযোজন করা হচ্ছে।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বারুইপুরের ঘটনায় তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করা হয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন আইজি পদমর্যাদার একজন আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পুরো আইজির নেতৃত্বে পুলিশ, এসটিএফ সবাই কাজ করছেন। ওনার পরিবার যা যা চেয়েছেন সরকারের কাছে, সেই কাজ সরকার করছে।”
সংবাদ মাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে জিরো টলারেন্স। আর অভিভাবকের সঙ্গে হয়তো কাল আমার দেখাও হয়ে যাবে। উনি যা যা বলবেন, আমি করব। ওখানকার যে রাজনৈতিক দল আছে, তাদেরও যদি কিছু পরামর্শ থাকে, তবে আমি কাল শুনে নেব। বড় অ্যাকশন হবে। আমি কাল নিজে যাচ্ছি বারুইপুর সুপারের অফিসে। মিসিং ডায়েরির ব্যাপারে পুলিশের, লোকাল পুলিশেরও কী ভূমিকা আছে, তারও অ্যাসেসমেন্ট হবে। পুলিশ অফিসারের যদি কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা (ইরেসপন্সিবিলিটি) পাওয়া যায়, তবে তাকে দরজা দেখানোর কাজটিও পুলিশ মন্ত্রী করবেন। একদম নো কমপ্রোমাইজ।”

