শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী সোমবার পশ্চিমবঙ্গে সাড়ম্বরে পালিত হল৷ এদিন সকালে শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের 125তম জন্মজয়ন্তীর একটি অনুষ্ঠান রেড রোডে আয়োজিত হয়৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ আরও অনেকে৷ পরে কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপির সদর দফতরেও পালিত জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতার ‘আবির্ভাব দিবস’৷ সেখানেও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানে তিনি জানান, বিদ্যালয়গুলিতে যেভাবে প্রার্থনায় বন্দেমাতরম উচ্চারিত হচ্ছে, সেভাবেই ঘরে ঘরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও পূজিত হবেন। এটাই বিজেপির লক্ষ্য ও স্বপ্ন।

উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শেই 1980 সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তৈরি হয়েছিল৷ সেই দল প্রতিষ্ঠার 46 বছর পর শ্যামাপ্রসাদের জন্মভূমিতে প্রথমবার বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে৷ তাই আবার সরকারি উদ্যোগে শ্যামাপ্রসাদ-জয়ন্তী পালনের আড়ম্বর বেশি৷ সকালে রেড রোডে গিয়ে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখান থেকেই তিনি চলে যান বিজেপির কলকাতার দফতরে৷ 6 নম্বর মুরলীধর সেন লেনের ওই অফিসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের যে মূর্তি রয়েছে, সেখানেও তিনি মাল্যদান করেন৷ তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 125তম জন্মজয়ন্তীতকে স্মরণীয় করে রাখতে নিউটাউনের ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকায় স্বাধীন ভারতের প্রথম বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর একটি 125 ফুট উঁচু মূর্তির শিলান্যাস করা হবে৷ সেখানে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ তাছাড়া এদিন শ্যামাপ্রসাদ-জয়ন্তী পালনে রাজ্যজুড়ে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেটাও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন৷ তিনি জানান, এদিন বিকেল 3টের সময় জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং পুরসভাগুলিতে একসঙ্গে শ্যামপ্রসাদ-জয়ন্তী পালন করা হবে৷ মূল অনুষ্ঠানটি হবে কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষকে অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। মিলন মেলার এই মূল মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বক্তব্য রাখবেন। এদিন শুভেন্দু অধিকারী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করেন এবং আগের রাজ্য সরকারগুলির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘আজ যে আমরা ভারতমাতার চরণে আশ্রয় পেয়েছি, তা এই মহামানবের জন্যই সম্ভব হয়েছে। না হলে আজ আমাদের আগের পাকিস্তান ও আজকের বাংলাদেশে থাকতে হতো।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বিগত 34 বছরে বামফ্রন্ট সরকার এবং 15 বছরের তৃণমূল সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই আত্মত্যাগ ও অবদানকে মানুষের মন থেকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দেন, 1947 সালের 20 জুন পশ্চিমবঙ্গকে ভারতভুক্ত করার পেছনে কার ভূমিকা ছিল, সেই ইতিহাস সবার জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, আগামিদিনে এই রাজ্যের আদর্শ এবং কার্যপদ্ধতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের স্বপ্নপূরণের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে। যেভাবে বিদ্যালয়গুলিতে প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ মন্ত্র উচ্চারিত হয়, ঠিক সেভাবেই ঘরে ঘরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পূজিত হবেন, এটাই বিজেপির লক্ষ্য এবং স্বপ্ন।