banganews.net

বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিস্তারে আপাতত লাগাম কষছে রাজ্য সরকার । অন্তত আগামী দু’বছর নতুন কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা অন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হবে না । একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে অনুমোদন পাওয়া সমস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বিএড, ডিএলএড, আইন, ফার্মাসি, পলিটেকনিক ও আইটিআই-সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো, শিক্ষার মান, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, ফি-র কাঠামো এবং অনুমোদনের শর্ত খতিয়ে দেখতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ পরিদর্শন ও অডিট চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । বিকাশ ভবনে কেন্দ্র-রাজ্যের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা, “শিক্ষাকে পণ্য হতে দেব না ।” নতুন সরকার গঠনের পর সোমবার প্রথমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী । কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, দুই দফতরের প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন । কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তিনি বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি । তবে সম্প্রতি দিল্লিতে রাজ্যের দুই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল ।প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে জাতীয় শিক্ষানীতির (এনইপি) বাস্তবায়ন, সরকারি স্কুল ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় ।

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, আপাতত নতুন কোনও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হবে না । বরং ইতিমধ্যেই যেসব প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে, তাদের প্রত্যেকটিতে পরিদর্শন করা হবে । পরিকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, পাঠদানের মান, ফি-র কাঠামো এবং অনুমোদনের সময় নির্ধারিত শর্তগুলি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে । যে প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করবে, ভবিষ্যতে তারাই অনুমোদন নবীকরণের সুযোগ পাবে ।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ভালো মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের কোনও আপত্তি নেই । কিন্তু শুধুমাত্র ডিগ্রি বিক্রির উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক, তা আমরা হতে দেব না । শিক্ষাকে কোনও অবস্থাতেই পণ্য হতে দেওয়া হবে না ।”জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি । মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্য ইতিমধ্যেই জাতীয় শিক্ষানীতি এবং পিএম-শ্রী প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে । আগামী বিধানসভা অধিবেশনেই প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের বিল আনার প্রস্তুতি চলছে । স্কুল পরিচালন সমিতিতে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে তাঁদের মধ্যে থেকেই চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন ।সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী । দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কম্পোজিট গ্রান্ট ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । প্রায় 81 হাজার স্কুলকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে । পর্যায়ক্রমে সব সরকারি স্কুলে গ্যাসে মিড-ডে মিল রান্না, বিশুদ্ধ পানীয় জল, উন্নত শৌচাগার, সৌরবিদ্যুৎ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে । বালিকা বিদ্যালয় এবং কো-এড স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে । এছাড়া আগামী 1 অগস্ট থেকে মিড-ডে মিলের মাথাপিছু বরাদ্দ 6.78 টাকা থেকে বাড়িয়ে 10 টাকা করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী । কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান ।