এনসিপিআইয়ের সাংসদদের ডাকায় সর্বদল বৈঠক থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট করল বিরোধিরা ৷ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন ৷ তার আগে রবিবার সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়ছিল ৷ সেখানে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের আমন্ত্রণ জানান সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ৷ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে কেন বৈঠকে ডাকা হয়েছে সেই প্রশ্ন তুলে বয়কট করলেন বিরোধী সাংসদরা ৷ প্রতীকী প্রতিবাদ শেষে আবারও বৈঠকে যোগ দেন বিরোধী সাংসদরা ৷সংসদ ভবনে হওয়া এই বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদদের পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র জানান, এদিন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি , ডিএমকে, জেএমএম, ন্যাশনাল কনফারেন্স, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা-সহ সম্পূর্ণ বিরোধী শিবির বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে ৷ সামিল হয়েছিলেন বাম সাংসদরাও ৷ তিনি বলেন, “সংসদের টেবিল অফিসের তথ্য় বলছে লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা 29 ৷ এর মধ্যে 20 জন সাংসদ তথাকথিত অনথিভুক্ত দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন ৷ ওই দলকে এখনএ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি ৷ সংবিধানের 91তম সংশোধনের পর মার্জারও করা যায় না ৷ তাহলে এই 20 জনকে কেন বৈঠকে ডাকা হল ? এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেই আমরা বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছি ৷ ” কেরলের সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস জানান, এনসিপিআই সাংসদদের বৈঠক ডাকা গণতন্ত্রের সঙ্গে অন্যায় করা ৷ এনসিপিআই-কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও শনিবার লোকসভায় তাঁদের বসার জন্য় আলাদা আসন নির্ধারণ করেন স্পিকার ৷ পাশাপাশি উদ্ধব ঠাকরের হাতে থাকা শিবসেনার 6 জন সাংসদ ইতিমধ্যেই একনাথ শিণ্ডের হাতে থাকা সেনা শিবিরের যোগ দিয়েছেন ৷ এই পরিবর্তনকে মান্যতা দিয়ে স্পিকার জানিয়েছেন, এই‘ 6 জন এখন থেকে শিণ্ডের সঙ্গে থাকা সেনা বলেই চিহ্নিত হবেন ৷ এই দুই সিদ্ধান্তেরই বিরোধিতা করে ওয়াকআউট হয়েছিল বলে জানা কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারি ৷
একদিন আগে জানা যায় তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের এনসিপিআই সাংসদরা সর্বদল বৈঠকে হাজির থাকবেন ৷ তারপর শনিবার রাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে যান সুদীপ ৷ পরে এ নিয়ে এক ভিডিয়ো বার্তায় উত্তর কলকাতার সাংসদ বলেন, ” প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নানা বিষয়ে আমার কথা হয়েছে ৷ তার মধ্যে এনডিএর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যাতে মজবুত থাকে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ অনেকে প্রচার করছেন কয়েকটি বিল পাশ করাতেই আমাদের আনা হয়েছে ৷ এই ব্যাপারটা যে একেবারেই ঠিক নয় – এ নিয়েও আমাদের মধ্য়ে কথা হয়েছে ৷ আলোচনায় বাংলার উন্নয়নের কথাও উঠে এসেছে ৷ গত 15 বছর আমরা যন্ত্রণা সহ্যকরেছি ৷ কেন্দ্রের তরফ থেকে বাংলা সাহায্য আসেনি ৷ এখন পরিস্থিতি বদলেছে ৷ বাংলার যাতে ভালো হয় তা নিয়েও কথা হয়েছে ৷ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলার উন্নয়নে আমাপ পরামর্শও প্রয়োজন ৷ তাছাড়া বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ৷ “

