কালিঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চ ভাঙার ঘটনায় ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট। এভাবে মঞ্চ ভাঙা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ? এমনই প্রশ্ন করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। ঘটনায় পুলিশকে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সোমবার রাতে বিড়লা তারা মণ্ডলের সামনে থাকা কালিঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চ ভাঙা হয় বলে অভিযোগ ৷ এ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। প্রাক্তন শাসক দলের দাবি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকার পরও পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যাবস্থা করা হয়নি। আইন শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্ন না হয় তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি বলেও অভিযোগ।মামলার শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রকে নির্দেশ দেন, অবিলম্বে লালবাজারের যুগ্ম পুলিশ কমিশনারকে জানাতে হবে এ ব্যাপারে পুলিশ কী ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পুলিশের জবাব তলব করেছেন বিচারপতি। একুশের সমাবেশের ঠিক আগের রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম চত্বর । কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তৈরি হওয়া তৃণমূলের সভামঞ্চে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে । অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে বাইক বাহিনী নিয়ে এসে তাণ্ডব চালিয়েছে গেরুয়া শিবিরে কর্মী-সমর্থকরা। গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সরাসরি রাজ্য সরকার এবং পুলিশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি । এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হল মমতা শিবির ৷দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে তৃণমূলকে ২১ জুলাই শহিদ দিবসের সভার অনুমতি দেয় । আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে এই আইনি ‘জয়’ এসেছিল । আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরেই জোরকদমে চলছিল মঞ্চ বাঁধার কাজ । এর আগে গত বুধবার বুধবার আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ হাজার কর্মী-সমর্থককে নিয়ে বিড়লা তারা মণ্ডলের সামনে সমাবেশ করা যাবে ৷ পুলিশকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে আইন-শৃঙ্খলার কোনও সমস্যা না-হয় ৷ বেলা ১২টা থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত এই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানের সময় বেঁধে দিয়েছে আদালত ৷ তৃণমূলের অভিযোগ আদালতের নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ ৷

