ভারতের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল আমেরিকা ৷ ‘বলপূর্বক শ্রম’ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে ভারত-সহ 60টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর এই শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন ৷ শুক্রবার থেকেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে। ঘোষণা অনুযায়ী, আমেরিকায় পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে কোনও দেশকে 10 শতাংশ, কোনও দেশকে 12.5 শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।গত মাসে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘ট্রেড অ্যাক্ট’-এর 301 নম্বর ধারার অধীনে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছিল, তখন ভারতকে 12.5 শতাংশ শুল্কের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছিল ৷ তবে ‘বলপূর্বক শ্রম’ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে নয়াদিল্লি তাদের বৈদেশিক বাণিজ্য নীতিতে যে সংশোধনী এনেছে, ওয়াশিংটন তা বিবেচনা করছে ৷বৃহস্পতিবার বিবৃতি জারি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “বাণিজ্য প্রতিনিধি আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, বলপূর্বক শ্রম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে এই অর্থনীতিগুলোকে আরও উৎসাহিত করতে তাদের পণ্যের উপর 10 শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা উচিত।”সব দেশের ওপর আরোপিত 10 শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ‘ট্রেড অ্যাক্ট’-এর 301 নম্বর ধারার অধীনে 60টি দেশের উপর নতুন এই শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেন ৷মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “জোর করে আদায় করা শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমেরিকায় আমদানি করা হয় না। প্রায় এক শতাব্দী ধরে তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং কঠোরভাবে তা কার্যকর করা হচ্ছে ৷”যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার আইন নেই—যেমন চিন, যুক্তরাজ্য ও জাপান—সেসব দেশের পণ্যের ওপর 12.5 শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলেও জানান জেমিসন ।

‘বলপূর্বক শ্রম’ সংক্রান্ত এই শুল্ক সেসব কাঁচামালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যার অভাবে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে ৷ কিংবা যেসব পণ্য সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে ৷ অথবা যেগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন বা চাষ করা সম্ভব নয়।শুল্কের আওতাভুক্ত 60টি দেশের মধ্যে ভারত, কানাডা, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান-সহ 17টি দেশের ক্ষেত্রে 10 শতাংশ হার প্রযোজ্য হবে। বাকি 43টি দেশকে 12.2 শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম চিন।শুক্রবার রাত 12টা 1 মিনিটে—অর্থাৎ সাময়িক 10 শতাংশ আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই—নতুন এই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে ৷ ওই রায়ে 2025 সালের এপ্রিলে প্রবর্তিত প্রেসিডেন্টের ‘লিবারেশন ডে’ (Liberation Day) শুল্কব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল ৷বিবৃতিতে গ্রিয়ার জানান, এই পদক্ষেপটি একইসঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাণিজ্য বিকৃতকারী একটি চর্চার সংশোধন ঘটাবে এবং সব জায়গার শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে একটি ফেডারেল নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুন মাসে প্রস্তাবিত শুল্কের বিষয়টি সামনে আসার পর ভারত জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। 14 জুন, ভারত তার বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি সংশোধন করে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে।গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপিত গত বছরের ‘পারস্পরিক শুল্ক’ (reciprocal tariffs)-কে অবৈধ ঘোষণা করার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব দেশের উপর 10 শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার শেষ হচ্ছে ৷