তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় প্রকল্পে চিকিৎসা করিয়ে কারও হাত বাদ গিয়েছে তো কারও বাদ গিয়েছে পা। শনিবার এক মা ও শিশুর দুই ছবি দেখিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” খুনের মামলা হবে ৷ কেউ বাঁচাতে পারবে না ৷ ” এদিনের ভাষণের একাধিক প্রসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ বলে তোপ দাগেন শুভেন্দু ৷উল্লেখ্য, সেবাশ্রয় প্রকল্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা করানোর আড়ালে বিপুল অর্থ তছরূপ, বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে জোর করে চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিনতাই এবং চরম চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীদের পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো একাধিক মারাত্মক অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল চলছে। তারই মাঝে এদিন বিধানসভায় অভিষেককে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ প্রসঙ্গত, গতকাল বিধানসভায় ফলতার বিধায়ক এই নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিলেন। আজ বিবৃতি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ৷বিধানসভায় এদিন শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, সেবাশ্রয় নিয়ে চিটিংবাজ ভাইপোকে ছাড়া হবে না। তিনি বলেন, “চিকিৎসাক্যাম্পের নামে বহু মানুষের অপপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। এ তো খুনের মামলা, একে কেউ বাঁচাতে পারবে না ৷ একবার ঢুকলে বেরোবে না ৷ সেবাশ্রয় ক্যাম্পে এক্সরে মেশিন ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ৷ সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ৷” বক্তব্যের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিলীপ মণ্ডলের (দক্ষিণ 24 পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক) গোডাউন থেকে 2021 সালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা সেবাশ্রয় 25-এর ক্যাম্পে রোগীদের দেওয়া হচ্ছিল। এমনকী মেডিক্যাল কলেজ পড়ুয়াদের দিয়েও চিকিৎসা করানো হয়েছে ৷তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের এক জুনিয়র চিকিৎসকের লেখা চিঠি বিধানসভায় পেশ করেন তিনি। ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের আরএমও ডঃ রাজীব বিশ্বাস চিঠিতে জানান, আরজি কর কাণ্ডে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ভয় ও হেনস্তার মুখে পড়ে তিনি আমতলা অডিটোরিয়াম ও এসডিও মাঠের মডেল ক্যাম্পে ডিউটি করতে বাধ্য হন। নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার আর্জি জানিয়ে তরুণ চিকিৎসকের লেখা চিঠিটি পড়ে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া চিকিৎসক হতে পারে ? চিকিৎসা করতে পারে ? সেবাশ্রয় দুর্নীতি নিয়ে বিষ্ণুপুর থানায় একাধিক মামলা রুজু হয়েছে বলেও বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রমাণ সংগ্রহ করছি। তদন্ত চলছে।” দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছতে সরকার যে কড়া মনোভাব নিয়েছে, তা পরিষ্কার করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কোনও ছাড়াছাড়ির সিন নেই, সুযোগও নেই। সরকারি যন্ত্রাংশ ও অর্থ নয়-ছয়ের তদন্তে কেন্দ্রের অ্যাটমিক এনার্জি ডিপার্টমেন্টের সচিব, অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ডের চেয়ারপার্সন, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর এবং দক্ষিণ 24 পরগনার সিএমওএইচ-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ 24 পরগনার জেলাশাসকরা ডায়মন্ড হারবার এবং নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয় প্রকল্পে ব্যয় হওয়া সরকারি অর্থের হিসেব পরীক্ষা করছেন।” শুভেন্দুর আরও সংযোজন, “সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা অপরাধীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অভিযান শুরু হয়েছে। রাজ্য পুলিশের সিআইডি, এসটিএফ, দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা পুলিশ ও মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত দল তদন্তের কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিটি অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে ধরে এগোচ্ছে পুলিশ। অত্যন্ত আঁটঘাট বেঁধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।” এরপরই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সময় কথা বলবে, টাইম উইল স্পিক।” অভিযুক্তদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না-বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।