banganews.net

চারটি নতুন টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিলেন সরাসরি অভিযোগ জানানোর ‘অস্ত্র’ । একই মঞ্চ থেকে মহিলাদের উপর অপরাধে ‘জিরো টলারেন্স’ এর বার্তা দিয়ে পুলিশকে কড়া হাতে আইন প্রয়োগের নির্দেশও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তবে শুধু কড়া বার্তাই নয়, রাজ্য পুলিশের মনোবল বাড়াতে একের পর এক আর্থিক সুবিধা, ভাতা বৃদ্ধি, বিপুল নিয়োগ, নতুন গাড়ি, থানার আধুনিকীকরণ-সহ একগুচ্ছ ঘোষণাও করলেন তিনি । মঙ্গলবার ভবানী ভবনে রাজ্য পুলিশের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মা, বোন, কন্যাদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় আইন মেনেই যা করার করবেন । আমি আপনাদের পাশে আছি । আমরা আর অভয়া চাই না ।” সম্প্রতি বারুইপুরে নাবালিকার উপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি রাজ্য পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেন । ডিজিপি এবং গোটা পুলিশ বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর বক্তব্য, অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানই মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে ।আইনশৃঙ্খলা আরও মজবুত করতে এ দিন চালু হয়েছে চারটি নতুন অভিযোগ জানানোর হেল্পলাইন । 155334 নম্বরে কাটমানি, 155335 নম্বরে সিন্ডিকেট, 155337 নম্বরে বেআইনি রোড ট্যাক্স বা টোল আদায় এবং 155339 নম্বরে অবৈধ চোলাই মদের অভিযোগ জানানো যাবে । প্রতিদিন সকাল 8টা থেকে রাত 10টা পর্যন্ত অভিযোগ গ্রহণ করা হবে । নবান্নে এ জন্য আলাদা কন্ট্রোল রুমও গড়ে তোলা হচ্ছে । তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করতে এই পরিষেবার অপব্যবহার করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের একাধিক দাবি মেটানোর আশ্বাসও মিলেছে এ দিনের মঞ্চ থেকে । আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী । পাশাপাশি, দুর্গাপুজোর আগেই অক্টোবর মাস থেকে পুলিশ কর্মীদের 20 শতাংশ অতিরিক্ত মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেওয়া হবে । একই সঙ্গে রেশন ভাতা বাড়িয়ে 2000 টাকা করার ঘোষণাও করেন তিনি (এতদিন এই বাবদ 1500 টাকা পেতেন পুলিশ কর্মীরা) ।পুলিশে লোকবল ঘাটতি মেটাতে বড় নিয়োগের রূপরেখাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী । বর্তমানে বাহিনীতে প্রায় 47 হাজার পদ খালি । ধাপে ধাপে এক লক্ষ নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি । আইনি জট কেটে যাওয়ায় প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করেও অপেক্ষায় থাকা 14 হাজার কনস্টেবলকে দুর্গাপুজোর আগেই কাজে যোগ দেওয়ানো হবে বলেও জানান ।পরিকাঠামো উন্নয়নেও বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে । 15 বছরের বেশি পুরনো 4000টি পুলিশের গাড়ি বদলে নতুন গাড়ি দেওয়া হবে । প্রথম দফায় 120টি থানার উন্নয়ন হলেও কেন্দ্রের সহযোগিতায় সেই সংখ্যা বাড়িয়ে 250 থেকে 300টি থানাকে আধুনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে । পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদ এবং সংগঠিত অপরাধের তদন্তে এনআইএ-র আদলে স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ) গড়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ।

পুলিশ কর্মীদের কর্মপরিবেশ উন্নত করতেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । দীর্ঘদিন জেলার বাইরে কর্মরত পুলিশদের নিজ জেলায় ফেরানোর উদ্যোগ, মহিলা পুলিশদের বাড়ির কাছাকাছি পোস্টিং, অরাজনৈতিক পুলিশ কল্যাণ পর্ষদ গঠন এবং বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশদের জন্য ছাতা, রেনকোট ও গামবুট দেওয়ার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী ।

একদিকে অপরাধ দমনে কঠোরতার বার্তা, অন্যদিকে পুলিশ বাহিনীর আর্থিক ও প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস- সব মিলিয়ে ভবানী ভবনের মঞ্চ থেকে রাজ্য পুলিশের উদ্দেশে ‘কঠোরতা’ এবং ‘সহযোগিতা’, দুই বার্তাই স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী ।