রাজ্যে বেআইনি রক্ত ও প্লাজমা পাচারের অভিযোগে তদন্তে গতি আনতে এবার সরাসরি আইনের দ্বারস্থ হল স্বাস্থ্য ভবন । তাদের তরফে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের একাধিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানাগুলি ৷ স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ 24 পরগনার সোনারপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে । পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা বালিগঞ্জ, লেক এবং বেনিয়াপুকুর থানাতেও পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ৷ অভিযোগগুলির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে থাকা ব্লাড ব্যাংক এবং তাদের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রের খবর । এই প্রসঙ্গে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আমরা স্বাস্থ্য ভবনের কাছে একটি লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি । এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে । সেই তথ্য হাতে এলে তদন্ত আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে ।’’ তদন্তকারী সূত্রের প্রাথমিক অনুমান, রাজ্যের একাধিক ব্লাড ব্যাংক সরকারি বিধি ও নির্ধারিত প্রোটোকল না-মেনে রক্ত সংগ্রহ করছিল । অভিযোগ, সেই সংগৃহীত রক্ত এবং প্লাজমার একটি অংশ বেআইনিভাবে অন্য রাজ্যে পাচার করা হত । এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা ৷ তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এই ঘটনায় শুধু কয়েকজন ব্লাড ব্যাংকের কর্মীর ভূমিকা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না । রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং অন্য রাজ্যে সরবরাহ- সমস্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । স্বাস্থ্য ভবনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখন সংশ্লিষ্ট নথি, ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্স, রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহের রেকর্ড, পরিবহণ সংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের নথিও খতিয়ে দেখতে পারে । তদন্তকারীদের আশা, প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে এলে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং বেআইনি রক্ত ও প্লাজমা পাচারের পুরো নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস করা সম্ভব হবে ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রক্ত সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে । তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তৃত অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে ।