তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্র মামলায় গ্রেফতারের ৩৫ দিনের মাথায় বিধাননগর পুরনিগমের কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিধাননগর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বারাসত আদালতে চার্জশিট জমা পড়েছে। দেবরাজের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্র নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে গ্রেফতার করার ৩৫ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। মোট ১১ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। দেবরাজের আইনজীবী তাঁর জামিনের আবেদন করেছিলেন। আমরা বিরোধিতা করেছি। জামিন খারিজ হয়ে গিয়েছে।” সঙ্গীতশিল্পী তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিধাননগর পুরনিগমের কেষ্টপুরের বাসিন্দা অভিজিৎ সাহা নামে এক প্রোমোটার দেবরাজের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে দেবরাজ তাঁর কাছে বিপুল টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দিলে ওই প্রোমোটারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ দায়ের হয়েছিল তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধেও। গ্রেফতার হতে পারেন আশঙ্কা করে দেবরাজ ও অদিতি দু’জনেই কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। বাড়িতে পাঁচ মাসের শিশুসন্তান থাকায় অদিতিকে আদালত আগাম জামিন এবং রক্ষাকবচ দেয়। তবে দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করে দেয়। আদালত তাঁর আগাম জামিন খারিজ করার পরেই দেবরাজ গা-ঢাকা দেন বলে দাবি। অবশেষে পয়লা জুলাই রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। শুধু তোলাবাজির অভিযোগই নয়, দেবরাজের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের উৎস বিহীন বিপুল সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দেবরাজ এবং তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রীর বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় 19টি সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর মধ্যে তিনটিতে নাম রয়েছে অদিতির। দেবরাজের সিন্ডিকেট চক্র শুধু বিধাননগর এলাকা নয়, বসিরহাটেও বিস্তৃত রয়েছে বলে খবর।