2016 সালের নোটবাতিলের পর ভারত-নেপাল সীমান্তে নগদ লেনদেনে যে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, প্রায় এক দশক পর তার অবসান ঘটিয়ে আবার নতুন 200 ও 500 টাকার ভারতীয় নোট ব্যবহারের অনুমোদন দিল নেপাল সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত পারাপারকারী পর্যটক এবং ছোট ব্যবসায়ীরা অনেকটাই স্বস্তি পেতে চলেছে। তবে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অভাবে ভারত-নেপাল সীমান্তে এখনও কিউআর কোডের চেয়ে নগদ টাকার ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয়। ফলে নগদ ভারতীয় টাকা বহন করার ক্ষেত্রে 25,000 টাকার ঊর্ধ্বসীমা বহাল থাকা নিয়ে এখনও বড় বাধা রয়ে গেছে। ব্যবসায়ীমহলের মতে, দুই দেশের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি কেবল একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। সীমান্তবর্তী ব্যবসায়ীদের মতে, নোটের মূল্যের তারতম্য কখনওই তাদের মূল সমস্যা ছিল না। পানিট্যাঙ্কি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী জানান, “সবচেয়ে বড় বাধা হলো এই 25,000 টাকার সীমা। এই সর্বোচ্চ সীমা না বাড়ানো পর্যন্ত বাণিজ্য ক্ষেত্রে খুব বড় কোনও সুবিধা পাওয়া যাবে না, কারণ বাণিজ্যিক লেনদেনে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়।” ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সীমান্ত পারের কেনাকাটা কমে যাওয়া, বাজারের পরিবর্তন এবং প্রায়শই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ডিজিটাল লেনদেন ব্যর্থ হওয়ার ফলে পানিট্যাঙ্কি-কাকরভিটা করিডোর দিয়ে ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নগদ টাকা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার কারণে অনলআইন লেনদেন বাড়লেও, প্রায়শই প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলিতে সমস্যা দেখা দেয় বলে জানান। ঝাপা ট্যুরিজম ফোরামের সভাপতি উদয় কুমার শ্রেষ্ঠা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “নগদের ওপর থেকে এই বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলে নেপালের পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতি সরাসরি উপকৃত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, 2016 সালের নোটবাতিলের পর কেবল 100 টাকার নোট নিয়ে যাতায়াত করা অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল এবং সীমান্তে মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলিতে ছুটতে হতো বলে অনেক যাত্রীই নেপাল ভ্রমণে ইতস্তত বোধ করতেন। নতুন এই নিয়মের ফলে ভারতীয় পর্যটকদের নগদ টাকা নিয়ে ভ্রমণ করা অনেক সহজ হবে, যা এখনও বহু মানুষ পছন্দ করেন।”

