পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে ধৃত রানার আরও সহযোগী গ্রেফতার ৷ জাফর শাম ওরফে সানি নামে ওই যুবককে হুগলির রিষড়া থেকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তথা এসটিএফ ।
জাল নথি তৈরির চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বুধবার রাত দুটো নাগাদ রিষড়ার সন্ধ্যাবাজার এলাকা থেকে সানিকে গ্রেফতার করে এসটিএফ ৷ এই বিষয়ে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানান, ধৃত দীর্ঘদিন ধরে জাল ডকুমেন্ট বানানোর কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল । এসটিএফ অনেকদিন ধরেই তার খোঁজ করছিল । তদন্তে জানা গিয়েছে, অন্য একটি জায়গায় ‘ফরেনার’ সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল । সেই মামলায় অভিযুক্তদের নকল কাগজপত্র বানিয়ে দিয়েছিল এই যুবকই । ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জাল নথি চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে । তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশি ধরপাকড় শুরু হওয়ার পর তপসিয়ার বাসিন্দা সানি রিষড়ায় গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন । এসটিএফ সূত্রে খবর, রানার সঙ্গে সানির যোগাযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং তাঁর কথিত ‘মডিউল’-এ সানির ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । বিশেষ করে, রানা যেভাবে ভারতে থেকে গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেই নেটওয়ার্কে সানি কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে ।
তদন্তকারীদের দাবি, জাফর শাম ওরফে সানি কলকাতার তপসিয়া এলাকার বাসিন্দা । রানা রউফকে গ্রেফতারের পর থেকেই তদন্তের পরিধি বাড়তে থাকে । একের পর এক সন্দেহভাজনের নাম উঠে আসার পাশাপাশি তপসিয়া এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে রানার যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে আসে । সেই সময়ই সানি রিষড়ায় গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ।
গোপন সূত্রে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর রিষড়ায় অভিযান চালায় এসটিএফ । সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় । ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রানার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা । রানা রউফের নেটওয়ার্কে তপসিয়ার যোগ নতুন নয় । আগেই গ্রেফতার হয়েছে তপসিয়ার ইমরান ও ইজাজ ৷
তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফকে কাঠমান্ডু হয়ে কলকাতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ইমরানের ভূমিকা ছিল । ভারতে থাকার জন্য রানার ভুয়ো পরিচয়পত্র বা নথি তৈরিতেও তাঁকে সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ । রানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগে ইজাজ আলিকেও গ্রেফতার করা হয় । ইজাজ রানার হয়ে বিভিন্ন কাজে সক্রিয় ছিলেন । ফলে রানা গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের একে একে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে এসটিএফ । সানিকে গ্রেফতারের পর এই মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার ।
হাবড়া থেকে প্রথম গ্রেফতার রানা, উঠছে ISI যোগের অভিযোগ
স্বাধীনতা দিবসের আগে গত 12 অগস্ট উত্তর 24 পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করে এসটিএফ ।তদন্তকারীদের দাবি, রানা আদতে পাকিস্তানের নাগরিক । কিন্তু ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে কলকাতায় বসবাস করছিলেন । কাঠমান্ডু হয়ে ভারতে ঢুকে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে ।
রানার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করছিলেন । ভারতীয় ভূখণ্ডে থেকে সেনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ । তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু নিজে তথ্য সংগ্রহ করাই নয়; প্রয়োজনীয় তথ্য জোগাড়ের জন্য আরও কয়েকজনকে নিজের নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন রানা । সেই সূত্র ধরেই একের পর এক সহযোগীর সন্ধান মিলছে বলে এসটিএফ সূত্রে খবর ।

