ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ-পুরকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনায় এবার সরাসরি তলব করা হল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শনিবার রাতে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোডের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে নোটিশ তুলে দেয়। পুলিশের তরফে তাঁকে থানায় হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে । ঘটনায় অভিষেকের পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীর-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল । তাঁদেরও হাজিরার নোটিশ দেওয়া হয়েছে । রাত প্রায় 9টা নাগাদ শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশকর্মীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছন। পুলিশ নোটিশ দিতে এসেছে জানতে পেরে বাড়ির ভিতর থেকে এক ব্যক্তি বাইরে বেরিয়ে আসেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়। কে ভিতরে গিয়ে নোটিশ দেবেন, তা নিয়েও কিছুক্ষণ কথাকাটাকাটি হয় বলেও সূত্রের খবর। প্রাথমিকভাবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, নোটিশ দিতে একজন পুলিশকর্মী বাড়ির ভিতরে যাবেন। কিন্তু বাড়ির তরফে এক জনের প্রবেশ নিয়ে আপত্তি জানানো হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর পুলিশও স্পষ্ট করে জানায়, একজন নয়, দু’জন পুলিশকর্মী ভিতরে গিয়ে নোটিশ দেবেন। শেষ পর্যন্ত দুই পুলিশকর্মী অভিষেকের বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন এবং তাঁর উদ্দেশে নোটিশ দিয়ে বেরিয়ে আসেন। এই নোটিশের মাধ্যমে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদিও ঠিক কোন দিন ও কটার সময়ের মধ্যে তাঁকে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি ।
গত 27 অগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের ছাদে থাকা তৃণমূলের একটি বড় বিলবোর্ড সরাতে যায় কলকাতা পুরনিগম। পুরনিগমের দাবি ছিল, বিলবোর্ডটি অনুমোদনহীন। সেই অভিযানে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশও উপস্থিত ছিল। বিলবোর্ড সরানোর সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তারক্ষী, দলীয় কর্মী ও পুলিশ-পুরকর্মীদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয় । পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও তাঁদের অনুগামীরা সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেন। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, যথাযথ আইনি নথি না দেখিয়েই পুলিশ ও পুরকর্মীরা অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনাস্থলেই তিনি পুলিশের কাছে অভিযানের লিখিত নির্দেশের কপি দেখতে চান।ঘটনার পর শেক্সপীয়র সরণি থানা, পার্ক স্ট্রিট থানা এবং কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়। মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীরের নাম উঠে আসে। পুলিশের তরফে একাধিক BNS ধারায় মামলা করা হয়েছে।
শুধু অভিষেক নন, একাধিক নেতাকে নোটিশ
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই তদন্তকারীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই 13 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে 3 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এই বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “তদন্তের জন্য আমরা নোটিশ দিয়েছি। এবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে”।

