পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে ভারত ৷ ব্রিকস সম্মলনে যোগ দিয়ে শুক্রবার এমনই মন্তব্য করেলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ৷ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে তাঁরা প্রস্তুত বলে জানালেও তিনি মনে করেন পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল ৷ আর এখানেই ভারতের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী ৷ এদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও দেখা করেন আরাঘচি ৷ পরে তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ইরানের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ৷ তাঁর কথায়, “হরমুজ প্রাণলীর পরিস্থিতি এখন খুবই জটিল ৷ পরিস্থিতি যা তাতে ভারত এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ৷ ভারতের তরফ থেকে কোনও প্রস্তাব এলে আমরা সেটা মেনেও নেব ৷” পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে শান্তি ফেরাতে বৈঠকে বসেছে আমেরিকা ৷ প্রথম বৈঠক থেকে কোনও সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি ৷ আর দ্বিতীয় বৈঠকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনি পাঠাননি ৷ খালি হাতে ইসলামাবাদ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে ৷ এদিন তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার বিশ্বাস করার কোনও কারণ আমাদের নেই ৷ অন্যদিকে, আমাদের বিশ্বাস না করার কোনও আমেরিকার কাছে নেই ৷” ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা করানো নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও এদিন মন্তব্য করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী ৷ তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের এই চেষ্টা এখনও ব্যর্থ হয়ে যায়নি ৷ অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের ব্য়বহার করবে না ৷
ইরানের বিদেশমন্ত্রী ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানালেও নয়াদিল্লি অনেক আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ৷ পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পরপরই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকে কেন্দ্রীয় সরকার ৷ সেখানে বিরোধী সাংসদদের তরফে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাওয়া হয় ৷ জবাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে উপযাচক হয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যায় ৷ তাদের কেউ সেই ভূমিকা নেওয়ার জন্য ডাকে না ৷ তবু তারা নিজে থেকেই সমস্যা সমাধান করতে যায় ৷ এই প্রথম নয়, সেই 1981 সাল থেকে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাতের বাতাবরণ কাটিয়ে পরিবর্তন আনতে চাইছে ইসলামাবাদ ৷ কিন্তু তাদের মতো দালালের ভূমিকা নেওয়া ভারতের কাজ নয় ৷ ভারত আগে কখনও এ কাজ করেনি ৷ আগামিদিনেও করবে না ৷

