তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন বদলা নয়, বদল চাই। সেই শান্তির বাণী ও প্রচার শুনে বাংলার মানুষ দু’হাত ভরে ভোট দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিতিয়েছিল। মমতা কার্যত বিরোধীদের শূন্য করে বাংলায় সরকার গঠন করেছিলেন । পশ্চিমবঙ্গে 15 বছর ক্ষমতায় থাকার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এবার উল্টো সুর শোনা গেল আরামবাগে তৃণমূলের প্রচারে। এবার আরামবাগে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে সাংসদ মিতালী বাগকে হাসপাতালে দেখে আসার পর বিজেপি ও সিপিএমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর ঘোষণা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদারতা অনেক দেখিয়েছেন ৷ এবারের তৃণমূল ক্ষমতায় এলে আরামবাগের স্টিয়ারিং তাঁরই হাতে থাকবে। বিজেপি যে ভাষায় বোঝে, সেই ভাষায় উত্তর দেবেন তিনি। অভিষেকের দাবি, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মতো তিনি অত উদার নন, এটা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়ে গেলেন আরামবাগের মাটি থেকে। গোঘাটে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের পর আহত তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের সঙ্গে দেখা করতে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আরামবাগ হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গেও মিতালী বাগের স্বাস্থ্যের বিষয়ে কথা বলেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের সমর্থনে রোড শো করেন তিনি। সেখানেই গাড়ির উপরে উঠে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। সেই সঙ্গে বাম আমলে অনিল বসুর অত্যাচার ও মনে করিয়ে দেন তিনি। অভিষেক বলেন, “তৃণমূল সাংসদের উপর আক্রমণ যাঁরা ঘটিয়েছে, মা-ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ নিজেদের এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নিজেদের রক্ষা করতে হবে। ছেড়ে দিলে চলবে না ৷ না হলে সেই অনিল বসুদের বাহিনী রাজত্ব করবে।” তিনি আরও বলেন, “2011 সাল থেকে 2014 সাল পর্যন্ত বাড়ি থেকে বেরোতে পারেনি সিপিএম । যেই বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, সিপিএমের হার্মাদদের অক্সিজেন দিয়ে নেতা তৈরি করেছে। আরামবাগের মানুষ ক্ষমা করবে না। যারা আরামবাগে এসে আরামবাগের মাটিকে অশান্ত করতে চেয়েছে, তাদের সুদে-আসলে আগামী দিনে জবাব দিতে হবে 4 মে ভোটের ফল ঘোষণার পর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোক আরামবাগের স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। যে ভাষায় এরা বোঝে, সেই ভাষায় অভিষেক ব্যানার্জি জবাব দিতে জানে। আমি অত উদার নই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বদলা নয়, বদল চাই বলেছিল। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুল ছিল। সেদিন যদি বদলা হতো, অনিল বসুর পুত্র সৌম বসুকে বাংলায় আর থাকতে হতো না। যে অত্যাচার অনিল বসুর আমলে আরামবাগবাসির উপর হয়েছে, 2011 সালেই 13 মে সুদে-আসলে জবাব দেওয়া যেত। এবার ভোটের ফল ঘোষণার দিনই জবাব দেওয়া হবে । খেলা ওরা শুরু করেছে মিতালীদির উপর আক্রমণ করে। ফিনিসিং আমি করব।” অভিষেক সিপিএমকে নিশানা করে বলেন, “মানুষ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা আজকে পদ্ম ফুলের ছত্রছায়ায় গিয়ে কাস্তে চালাচ্ছে। সিপিএমের অত্যাচার ভুলে গেলে হবে? আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল, পুড়শুড়া— যারা আমার কথা শুনছেন, এই চারটে বিধানসভা তৃণমূলকে জেতান। আরামবাগকে আলাদা জেলা তৃণমূল সরকার করবে। আপনাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে আলাদা জেলা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।” সোমবার তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে, মোদির গ্যারেন্টিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিচ্ছেন, বিনামূল্যে রেশন, যুব সাথী, কৃষক বন্ধু, খাদ্য সাথী ও কন্যাশ্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় দিচ্ছেন। বিজেপি বলছে, মোদিজি গ্যারান্টি দিচ্ছে। 12 বছর কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায়। 12 বছরে 12 পয়সা যদি আরামবাগের জন্য দিয়েছে দেখাতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। তৃণমূল সরকার এই আরামবাগেই 80 হাজার মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। এই আরামবাগেতেই গত দু’বছরে 15 হাজার বাড়ি পেয়েছে গরিব মানুষ। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আরামবাগে তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগকে জয়লাভ করান, যত কাঁচা বাড়ি আছে পাকা হয়ে যাবে। কেন্দ্র সরকার টাকা দিক বা না দিক।”

