নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত হুগলির গোঘাট। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যাওয়ার পথে আক্রান্ত হলেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। সোমবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোঘাট এলাকা। ভাঙচুর করা হয় সাংসদের গাড়ি, ইটের আঘাতে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিতালি বাগ। সোমবার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক আগে আরামবাগে শেষ লগ্নের প্রচারে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতেই বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন মিতালি। সাংসদের অভিযোগ, গোঘাটে যেখানে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের কার্যালয় রয়েছে, সেখানে তাঁর গাড়ি আটকে একদল দুষ্কৃতী লাঠি, রড ও বন্দুক নিয়ে চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ স্ট্রিমিং করে কান্নায় ভেঙে

পড়েন সাংসদ। তিনি বলেন, “দেখুন কী ভাবে এক জন মহিলার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে, গোটা শরীরে কাচের টুকরো ফুটে গিয়েছে।” হাসপাতালে যাওয়ার পথে লাইভ ভিডিওতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন মিতালি। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন কমিশন, আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন এক জন মহিলার ওপর কী ভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে? আরামবাগে এসে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন, এই হামলার দায়ভারও আপনাকে নিতে হবে।” খবর পাওয়া মাত্রই কর্মসূচি শেষে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে জখম সাংসদকে দেখতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি জানি হামলার সঙ্গে কারা যুক্ত। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বেছে বেছে বের করব। আরামবাগে হারি বা জিতি, ৪ তারিখের পর সব হিসেব হবে।”

