বিধানসভা নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের পর এবার শাসকদলের অন্দরে শুরু হল পদত্যাগের পালা । 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্ত । সোমবার গভীর রাতে সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন তৃণমূলের এই পরিচিত নেতা । তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব সামলাতেন বিবেক গুপ্ত । তিনি মূলত দলের হিন্দিভাষী সেলের চেয়ারম্যান ছিলেন । কিন্তু সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের হিন্দি বলয়গুলিতে, বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো এলাকাগুলিতে জোড়াফুল শিবির একেবারেই দাগ কাটতে পারেনি । এই অঞ্চলগুলিতে দলের এই চরম ব্যর্থতার কারণেই তিনি সরে দাঁড়ানোর মতো কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে । সোমবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় নিজের ইস্তফার কথা জানাতে গিয়ে তিনি লেখেন, “2026 সালের নির্বাচনে দলের এই ফলাফলের জন্য আমি সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করছি । দলের একজন নেতা হিসেবে আমি নিজের ব্যর্থতা অকপটে মেনে নিচ্ছি ।” এরপরই তিনি জানান যে, দলের সমস্ত পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিলেন এবং আগামী দিনে শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন । উল্লেখ্য, গত 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে জোড়াসাঁকো কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছিলেন বিবেক গুপ্ত । কিন্তু 2026 সালের এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে তৃণমূলের তরফে তাঁকে আর টিকিট দেওয়া হয়নি । তাঁর পরিবর্তে এই কেন্দ্র থেকে শাসকদলের প্রার্থী হয়েছিলেন বিজয় উপাধ্যায় । তবে তিনিও শেষ হাসি হাসতে পারেননি । ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী বিজয় ওঝার কাছে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন ওই তৃণমূল প্রার্থী । এরপরেই রাতে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন বিবেক । পদত্যাগের ঘোষণার পাশাপাশি অপর একটি পোস্টে জোড়াসাঁকোবাসীর উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রাক্তন এই বিধায়ক । নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “জোড়াসাঁকোর মানুষ নিজেদের মতামত স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন । আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাঁরা বিজয় ওঝাকে জোড়াসাঁকোর মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন ।” নতুন বিধায়ক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি । একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, 2021 থেকে 2026 সাল পর্যন্ত জোড়াসাঁকোর বিধায়ক থাকাকালীন তিনি নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছেন । সেই সঙ্গে জোড়াসাঁকোর জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল বলেও তিনি ওই পোস্টে উল্লেখ করেছেন ।দীর্ঘ পনেরো দশক পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিরাট রদবদল ঘটেছে । তৃণমূল কংগ্রেসের একচেটিয়া আধিপত্যে ফাটল ধরিয়ে বাংলার ক্ষমতায় চলে এসেছে বিজেপি । গেরুয়া শিবির এই নির্বাচনে 200টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করেছে । অন্যদিকে, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের আসন সংখ্যা 100-র নীচে নেমে গিয়েছে । এমন এক বিপর্যয়ের পর স্বভাবতই দলের অন্দরে আত্মসমালোচনার কাজ শুরু হয়েছে । এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেলেই কালীঘাটের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এই বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে । হাইভোল্টেজ এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এই বিপুল পরাজয়ের পর শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কী বার্তা দেওয়া হয়, আপাতত সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের ।

