এ বার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়িকা অদিতি মুন্সি । তাঁর একাধিক কার্যালয়ের তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের দাবি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাগুইআটির 44 নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা । বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির নেতৃত্বে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা এ দিন এলাকার কয়েকটি পুরনো ওয়ার্ড অফিসে পৌঁছন । অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ওই কার্যালয়গুলিতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী গচ্ছিত রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পান তাঁরা । এরপরই তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন বিজেপি কর্মীরা । বিজেপির দাবি, ঘরের ভিতরে থরে থরে সাজানো ছিল ত্রিপল, শাড়ি, ছাতা-সহ বিভিন্ন সরকারি ত্রাণসামগ্রী । বিপর্যস্ত ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ ওই সামগ্রী বিতরণ না করে বছরের পর বছর মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ । উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে বলেও দাবি করেছেন বিজেপি নেতারা । ঘটনাস্থল থেকেই তীব্র আক্রমণ শানান বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি । তাঁর কথায়, “সাধারণ মানুষের করের টাকায় কেনা ত্রাণসামগ্রী মানুষের হাতে পৌঁছনোর কথা ছিল । অথচ তা তালাবন্ধ ঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে । এটা শুধু অনৈতিক নয়, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ।” তিনি সরাসরি প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন । শুধু ত্রাণসামগ্রী নয়, বিজেপির আরও দাবি, এলাকার অন্য একটি কার্যালয় থেকে কিছু অস্ত্রশস্ত্র এবং পুরনো ভোট-সংক্রান্ত নথিপত্রও উদ্ধার হয়েছে । খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাগুইআটি থানার পুলিশ । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী । উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর । এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ইতিমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে । বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ দলীয় কার্যালয়ে মজুত রেখে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হত । অন্যদিকে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সি বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ।

