খারাপ আবহাওয়ার জেরে রবিবার থেকে স্থগিত অমরনাথ ও বৈষ্ণোদেবী যাত্রা ৷ জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন শনিবার জানিয়েছে, রবিবার থেকে অমরনাথ ও মাতা বৈষ্ণোদেবী যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে । জম্মু ও কাশ্মীরে আগামী কয়েক দিন ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কতা জারি করেছে মৌসমভবন ৷ এরপরই কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে রবিবার থেকে পহেলগাঁও ও বালতাল—উভয়পথেই বার্ষিক অমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে । পবিত্র গুহা মন্দিরে যাত্রাকারী তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শনিবার গভীর রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয় । কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার অংশুল গর্গ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে 19 জুলাই থেকে পহেলগাঁও ও বালতাল-উভয় পথেই শ্রী অমরনাথজি যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে ।”
এর ফলে কাশ্মীর অঞ্চলের বালতাল এবং নুনওয়ান/চন্দনওয়ারি বেস ক্যাম্প থেকে তীর্থযাত্রীদের আর সামনের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না; পাশাপাশি জম্মুর ভগবতী নগর যাত্রী নিবাস থেকেও তীর্থযাত্রীদের কোনও দলকে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না । তিনি আরও বলেন, “পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতির সামগ্রিক পর্যালোচনার পর যথাসময়ে (অমরনাথ) যাত্রা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তথ্য জানানো হবে ।” এবার এখনও পর্যন্ত 3 লক্ষ 76 হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রী পবিত্র গুহা-মন্দিরে দর্শন করে পুজো দিয়েছেন ৷ বৈষ্ণোদেবী যাত্রাও স্থগিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে জম্মুর এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, “আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী যাত্রাও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে ।”
তিনি জানান, ওই অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে জন-নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তীর্থযাত্রা শুরু করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভক্তদের । আবহাওয়া দফতর 19 থেকে 23 জুলাই অর্থাৎ, রবি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে । আইএমডি জানিয়েছে, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ এবং জম্মুর দিকে মৌসুমী বায়ুর অক্ষ (মনসুন ট্রাফ) সরে আসার ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে । সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বৃষ্টির ফলে বিশেষ করে পীরপাঞ্জাল পর্বতমালা এবং কাশ্মীরের উঁচু এলাকাগুলো-যেমন অনন্তনাগ, পহেলগাঁও, কুলগাঁও, সোপিয়ান, গুলমার্গ, সোনমার্গ-জোজিলা অক্ষপথ, বান্দিপোরা-রাজদান পাস এবং কুপওয়ারা-সাধনা পাসে-ভূমিধস, কাদা ধস, পাথর খসে পড়া এবং আকস্মিক বন্যার মতো ঘটনা ঘটতে পারে ।

