ভোটের মুখে কখনও আম, কখনও জেলার প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে মালদাবাসীর আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ তৃণমূলের সঙ্গে নিশানা করলেন মমতা-অভিষেককে ৷ সঙ্গে দিয়েছেন একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ৷ অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে এদিনও তিনি সরব হন ৷ সবচেয়ে বড় কথা, এদিন তিনি বাবরি মসজিদ ইস্যু তুলে ধরে হুমায়ুন কবীরের নাম নিজেদের কোর্ট থেকে ছেঁটে ফেলার চেষ্টাও করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৷ এদিন হুমায়ুন কবীর নিয়ে মমতা ও অভিষেককে কটাক্ষ করেন শাহ ৷ তিনি বলেন, “সাড়ে পাঁচশো বছর পর অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মিত হয়েছে ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরের উদ্বোধন করেছেন ৷ ওই মন্দির ভেঙে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন বাবর ৷ এখন মমতা-অভিষেক হুমায়ুনকে দিয়ে বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরি করাতে চান ৷ কিন্তু আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, এই ভূমিতে কেউ বাবরি মসজিদ নির্মাণ করতে পারবে না ৷”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের তরফে একটি ভিডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ করা হয় ৷ বঙ্গনিউজ সেই ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি ৷ ওই ক্লিপে হুমায়ুনের সঙ্গে কারও কথোপকথন শোনা যায় ৷ তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, বাবরি মসজিদ নিয়ে হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির এক হাজার কোটি টাকার ডিল হয়েছে ৷ রাজনৈতিক মহল বলছে, সেই বিতর্ক ঝেড়ে ফেলতেই এদিন হুমায়ুনের নাম করে তৃণমূল নেত্রী ও অভিষেককে বিঁধেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ বাংলা বর্ষশেষের দিন মালদায় দুটি নির্বাচনী জনসভা করেন অমিত শাহ ৷ প্রথম সভাটি ছিল মানিকচকে ৷ সেখানে মানিকচক ও মোথাবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডল ও নিবারণ ঘোষের সমর্থনে সভা করেন তিনি ৷ দ্বিতীয় সভাটি হয় গাজোলে ৷ ওই সভাটি ছিল গাজোল কেন্দ্রের প্রার্থী চিন্ময় দেববর্মন ও হবিবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী জয়েল মুর্মুর সমর্থনে ৷ দুই সভাতেই শাহ’র দাবি, দিদির সময় শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ উত্তরবঙ্গের জনতা তাঁকে টাটা-বাই-বাই করছে ৷ মানিকচকবাসী ভেবেছিল, এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গঙ্গার ভাঙন রোধের বিষয়ে নতুন কিছু বার্তা দেবেন ৷ তেমন কোনও বার্তা না-পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন তাঁরা ৷ তবে আদিবাসী অধ্যুষিত গাজোলে সুচতুরভাবে আদিবাসী তাস খেলেছেন ৷ বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী বিরোধী ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছেন ৷ আর মমতা তাঁকে অপমান করেছেন ৷ আজ আম্বেদকর জয়ন্তী ৷ আমরা আদিবাসী রাষ্ট্রপতির অপমান সহ্য করব না ৷ আমরা এর জবাব দেবই ৷”

শাহ এদিন বলেন, “মালদা আমের জন্য বিখ্যাত ৷ এই জেলার আম হাজার কিলোমিটার দূরে গুজরাত পর্যন্ত যায় ৷ মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় ৷ কিন্তু দিদির শাসনে আমচাষিদের কোনও সুবিধে হয়নি ৷ এখানে এখনও পর্যন্ত আম সংরক্ষণ করার জন্য কোনও হিমঘর তৈরি হয়নি ৷ 5 মে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর উত্তরবঙ্গের প্রতি মণ্ডলে একটি করে বহুমুখী হিমঘর তৈরি করা হবে ৷ উত্তরবঙ্গে একটি এইমস হাসপাতালের পাশাপাশি 600 শয্যার ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি হবে ৷ শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি, একটি আইআইএম ও একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও গঠিত হবে ৷ উত্তরবঙ্গে চারটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি করা হবে ৷ পাশাপাশি চা-বাগানের শ্রমিকদের নিজস্ব জমি প্রদান করা হবে ৷” এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফশিলের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও আদিবাসীদের সারনা ধর্মকে সেই তফশিলের আওতায় নিয়ে আসা নিয়ে কোনও কথা বলেননি ৷ অথচ এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন আদিবাসীরা ৷ এদিনও বাংলার সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে তৃণমূল-সহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নেন শাহ ৷ বলেন, “মমতা আর ভাইপো পুরো বাংলায় সিন্ডিকেটের রাজত্ব তৈরি করেছে ৷ বিজেপি সরকার গঠন করলেই সিন্ডিকেটের সব লোকজনকে জেলের পিছনে নিয়ে আসা হবে ৷ ভূতনি ও পঞ্চানন্দপুরের বন্যায় মোদিজি কয়েকশো কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন ৷ পুরো টাকাটাই ঘোটালা করা হয়েছে ৷ এরা ভাবছে, এদের কিছু হবে না ৷ কিন্তু আমরা এদের উলটো ঝুলিয়ে সিধে করে দেব ৷”