বিচারকদের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে মালদায় NIA-র টিম। প্রথমেই মোথাবাড়ি থানায় যান তাঁরা। DIG-এর নেতৃত্বে ২৪ জনের টিম মালদায়। শুক্রবার বিকেল 4টে 5 মিনিট নাগাদ মোথাবাড়ি থানা এলাকায় পৌঁছয় এনআইএ-র প্রতিনিধি দল । প্রথমেই ব্লক অফিসে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তা খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা । এরপর সরাসরি ব্লক অফিসে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন । পাশাপাশি বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পথে কোথায় কোথায় গাড়ি আটকানো বা হামলার চেষ্টা হয়েছে, সেই সব জায়গাও ঘুরে দেখেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা । স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা । এদিন তদন্তকারীদের একটি দল সেই জায়গাতেও যায়, যেখানে বিচারকদের পাইলট গাড়ি উলটে গিয়েছিল বলে অভিযোগ । সেখানেও পুলিশের কাছে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয় । গোটা এলাকা ভিডিয়োগ্রাফি করা হয় এবং পুলিশের বয়ানও রেকর্ড করা হয় । তদন্তের অংশ হিসেবে রাস্তার ধারের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতেও দেখা যায় এনআইএকে। এদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে মালদা জুড়ে বিক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছিল আগেই । কালিয়াচকের সুজাপুরে 12 নম্বর জাতীয় সড়ক প্রায় 15 ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল । একই সময়ে ব্লক অফিসে কর্মরত বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে । এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে । মোথাবাড়ি থানার পুলিশ আরও 6 জনকে গ্রেফতার করেছে । সুজাপুরের ঘটনায় ধরা পড়েছে 2 জন । ইংরেজবাজারের যদুপুর এলাকায় অবরোধ ও পুলিশ গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন 9 জন । সব মিলিয়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত হামলার ঘটনায় মোট 35 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ । ধৃতদের পরিবারের তরফে অবশ্য অভিযোগ উঠেছে ভিন্ন সুরে । এক ধৃতের বোন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমার ভাই শুধু ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদ করছিল । হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কেন ওকেই গ্রেফতার করা হল ? আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই । সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রতিবাদ করলেই কি গ্রেফতার হতে হবে ?”

ঘটনার জেরে শুক্রবারও কার্যত স্তব্ধ মোথাবাড়ি । এলাকায় পুরুষদের উপস্থিতি কম চোখে পড়েছে । জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “কালিয়াচকের একাধিক ঘটনায় মোট ছ’টি মামলা রুজু হয়েছে। 150 জনেরও বেশি মানুষকে শনাক্ত করা হয়েছে । পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।” মালদার এই ঘটনাপ্রবাহ এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর সকলের ।