ফলতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে ৷ ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে বড়সড় পদক্ষেপ পুলিশের। গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সাইদুল খানকে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়েছিল ফলতা থানায়। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। 29 এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় ফলতায় ৷ তবে গড়মিলের জেরে এই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয় ৷ 21 তারিখ আবার ভোট নেওয়া হবে ৷ তার আগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল প্রার্থীর ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত সাইদুল ৷ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সাইদুল একটি অতি-পরিচিত নাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফলতা অঞ্চলে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৷ ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন অতীতে। তাঁর গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা। পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি সাইদুল খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে ফলতা থানায়। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল ৷ নানাভাবে ভয় দেখানোরও চেষ্টা হচ্ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ, এর মধ্যেই শনিবার ফলতায় জনসভা করতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগে এই গ্রেফতারি একটি বিশেষ বার্তা বহন করছে। প্রশাসন যে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, এই পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত বলেও মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ফলতা এলাকায় একাধিক অভিযোগ উঠলেও সেইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও মত অনেকের। যদিও এই ঘটনায় জাহাঙ্গীর খান বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।