কয়েক ঘণ্টা পর হিঙ্গলগঞ্জের মাটিতে পা-রাখতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের জন্য আজ তাঁর দু’টি জনসভা ও একটি রোড-শো কর্মসূচি রয়েছে ৷ আর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে হিঙ্গলগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ সন্দীপ সরকারের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন । এই ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অলকানন্দ ভাওয়াল জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনেই হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি সন্দীপ সরকারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে । তবে, এই পুরো বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি । বৃহস্পতিবার প্রথম দফা ভোটের দিন নির্বাচন কমিশন থেকে মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালার কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে ওই পুলিশ আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয় । সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আর কয়েক ঘণ্টা বাদেই হিঙ্গলগঞ্জের নেবুখালি এলাকায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি জনসভা রয়েছে । রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের ঠিক আগেই পুলিশের এই শীর্ষস্তরের আধিকারিকের বিরুদ্ধে কমিশনের এমন কড়া পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে । কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে । মূলত, তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ রাখা এবং নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে চূড়ান্ত ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে । বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কমিশন । কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আজ এই সাসপেনশনের কমপ্লেয়েন্স রিপোর্ট (Compliance Report) জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । সেইসঙ্গে, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-র পদটি পূরণ করার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে দ্রুত বিকল্প প্রস্তাব পাঠাতেও বলা হয়েছে । নির্বাচনের মরশুমে কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। উত্তর 24 পরগনার মতো সংবেদনশীল এলাকায় নির্বাচনের আবহে এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কমিশনের এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দেয় যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিচ্যুতি বা পক্ষপাতমূলক আচরণ কমিশন বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বজায় রাখা যে কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ৷ প্রশাসনিক মহলের ধারণা, এই নির্দেশের পর জেলাজুড়ে পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

