রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হলো একগুচ্ছ যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত। এর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হল- ধর্মের ভিত্তিতে রাজ্যে আর কোনও ভাতা দেওয়া হবে না। ফলে ইমাম মুয়াজ্জিন ভাতা এবং পুরোহিত ভাতা বন্ধ করে দিল রাজ্য সরকার। আজ সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিন পরিবর্তনের সরকারের এই দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাংবাদিকদের সামনে এসে রাজ্য মন্ত্রিসভার এই কড়া সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দেন। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন কোন স্কলারশিপ বন্ধ করা হচ্ছে না। শুধু বন্ধ হচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া ভাতা। সোমবার নবান্নে আয়োজিত দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্থ ধর্মীয় শ্রেণি বিন্যাসের ভিত্তিতে প্রদত্ত যাবতীয় সহায়তামূলক প্রকল্প বা ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। চলতি মাস পর্যন্ত এই ভাতার সুবিধা প্রাপকরা পেলেও, আগামী মাস থেকেই তা পুরোপুরি রদ করা হচ্ছে।

পূর্বতন রাজ্য সরকারের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুরোহিত, ইমাম, মোয়াজ্জেমদের ১৫০০ টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হত। চলতি বছর মার্চেই ৫০০ টাকা ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিতদের ভাতা বাড়িয়ে মাসিক ২০০০ টাকা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে এই প্রকল্প ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে বারবার সরব হওয়া বিরোধী শিবির সরকারে আসতেই সেই সমস্ত ধর্ম ভিত্তিক প্রকল্প বন্ধ করা হল। ভাতায় ‘কল্পতরু’ সরকারের আমলে মাজা ভেঙেছিল বাংলার অর্থনীতির। রাজ্যের কোষাগারে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। সে অবস্থাতেও ‘মেলা-খেলা’র বরাদ্দে অর্থের কোনও কমতি যায়নি। বরং উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে পুজো অনুদানও। নতুন সরকারের আমলে  এবার দুর্গাপুজোয় ক্লাবগুলির জন্য বরাদ্দ অনুদানও কি বন্ধ হতে চলেছে? কারণ ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে জনমুখীপ্রকল্পে গতি আনার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার অর্থ ভান্ডার চাঙ্গা করাও চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।