মাছে-ভাতে বাঙালির পাতে নজর গেরুয়া শিবিরের। বৃহস্পতিবার, বাংলায় প্রচারে এসে মাছ উৎপাদন নিয়ে রাজ্যকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পাল্টা দলীয় প্রার্থীদের প্রচার গিয়ে মোদিকে ধুয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । জানান, বর্তমানে মাছ উৎপাদনে বাংলা সাবলম্বী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আগে ইলিশের জন্য বাংলাদেশ ও হায়দরাবাদের উপর ভরসা করতে হত, এখন মাছ উৎপাদনে বাংলা সাবলম্বী। বৃহস্পতিবার হলদিয়ার সভা থেকে নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, বাংলায় মাছের চাহিদা থাকলেও রাজ্য মৎস্য প্রতিপালনে আত্মনির্ভর নয়। ভারতে মাছ উৎপাদন ১১ বছরে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বাংলা সেই সফলতা পায়নি। তবে, এই সব অভিযোগ উড়িয়ে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, আগে বাংলায় খুব বেশি ইলিশ মাছ পাওয়া যেত না। বর্তমানে ডায়মন্ড হারবারে রিসার্চ সেন্টারে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাতেই প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ উৎপাদন হয়। আগে ইলিশের জন্য বাংলাদেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হত। চাহিদা পূরণের জন্য হায়দরাবাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত। কিন্তু এখন মাছ উৎপাদনে বাংলা সাবলম্বী হয়েছে। চুনোপুঁটি মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এছাড়াও মৎস্যজীবীদের সুবিধার্থে আলাদা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “বাংলা জিততে চক্রান্ত করছে বিজেপি। জুট মিলগুলি বন্ধ করে দিয়েছিল। যারা বলছেন ‘সুনার বাংলা’ গড়ব। হলদিয়ায় গিয়ে বলেছেন, বাংলায় মাছ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। দিল্লিতে মাছের দোকান বন্ধ করে দেন। বিহারে মাছ খেতে দেন না। দিল্লিতে মাছ খেতে দেন না। উত্তরপ্রদেশে মাছ খেতে দেন না। আমরা আশি শতাংশ মাছ উৎপাদন করি। আমোদি-প্রমোদিবাবুরা একটু জেনে রাখুন। বাংলার মাছ খাওয়া নিয়ে ভাবতে হবে না। আপনি অন্য রাজ্যে কেন মাছ, মাংস খাওয়া বন্ধ করেছেন, কেন বাংলায় কথা বললে অত্যাচার হয়? ওরা বাংলা দখল করতে চায়, বাংলা ভাষা বন্ধ করতে চায়। মাছ, মাংস, ডিম বন্ধ করতে চায়। ওদের আগে প্রশ্ন করুন, আমি কী খাবো তোমরা ঠিক করবে? একজন হকার ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করছে, তাঁকে পিটিয়ে দিল। খুব সুক্ষ্মভাবে অন্য একটা ধর্মকে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভারতের একটা ধর্ম না। বাংলার এটা ধর্ম না।“

