বার্ড ফ্লু শনাক্ত হতেই সংক্রমণ বৃদ্ধি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিল ছত্তিশগড় প্রশাসন ৷ পশুচিকিৎসা বিভাগের তরফেও একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । বিলাসপুরের পশুচিকিৎসা বিভাগ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সংক্রমণ রোধ করতে কয়েক হাজার মুরগি নিধন করা হয়েছে ৷ নষ্ট করা হয়েছে ডিমও ৷ পশুচিকিৎসা বিভাগের যুগ্ম ডিরেক্টরের নির্দেশে দ্রুত আপৎকালীন দল গঠন করা হয়েছে ৷ আক্রান্ত এলাকাগুলিতে প্রাথমিক স্তরে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে । সংক্রমণের চেইন সম্পূর্ণরূপে ভাঙতে, ওই বিশেষ দল আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন এলাকা থেকে মোট 22 হাজার 808টি মুরগি, 25 হাজার 896টি ডিম এবং অবশিষ্ট প্রায় 79 কুইন্টাল শস্যদানা বৈজ্ঞানিক উপায়ে নষ্ট করেছে । এই পদক্ষেপটি সরকারের নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী সতর্কতার সঙ্গে করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তরফে । একই সঙ্গে, বার্ড ফ্লু কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতেও পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন ৷ জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণের জন্য কালেক্টরেট চত্বরে 24 ঘণ্টার একটি বার্ড ফ্লু কন্ট্রোল রুম খুলেছে বলে জানানো হয়েছে ৷ প্রশাসন জনসাধারণকে বার্ড ফ্লু সম্পর্কিত যে কোনও তথ্য, সন্দেহ বা মৃত পাখি সম্পর্কে অবিলম্বে কন্ট্রোল রুমের ল্যান্ডলাইন নম্বর 07752-251000 নম্বরে জানানোর জন্যও আবেদন করেছে । ভেটেরিনারি বিভাগের যুগ্ম ডিরেক্টর ডাক্তার জিএসএস তানওয়ারের মতে, জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে ৷ পশুপালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । পোল্ট্রি খামারগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও খবর । আক্রান্ত এলাকায় চলাচলও সীমিত করা হচ্ছে । তিনি বলেন, “এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলি বার্ড ফ্লুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে । জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্কতা ও সচেতনতা বজায় রাখতে হবে । সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, বার্ড ফ্লু সংক্রমণের কোনও সন্দেহজনক ঘটনা বা মৃত পাখির সন্ধান পেলে যেন অবিলম্বে কন্ট্রোল রুমের হেল্পলাইনে খবর দেওয়া হয় ।” এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু হল একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মূলত পাখিদের আক্রান্ত করে; তবে এটি কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে । কোনি এলাকায় অবস্থিত একটি সরকারি পোল্ট্রি খামারে এই প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়, যেখানে গত 19 থেকে 24 মার্চের মধ্যে প্রায় 4,400টি মুরগি মারা যায় । কর্তৃপক্ষ কোনি এলাকায় অবস্থিত বার্ড ফ্লু-আক্রান্ত খামারটির চারপাশের এক কিলোমিটার এলাকাকে ‘সংক্রমিত এলাকা’ এবং 10 কিলোমিটার এলাকাকে ‘নজরদারি এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে । পোল্ট্রি খামারের কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও চলছে । আধিকারিকরা জানান, যেসব কর্মীর শরীরে রোগের লক্ষণ দেখা দেবে, তাদের পরীক্ষা করা হবে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হবে । এছাড়া, কর্তৃপক্ষ পুরো জেলাজুড়ে হাঁস-মুরগি বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর ওপরও সর্বক্ষণ নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে । জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনসাধারণের প্রতি গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিতে এবং আধিকারিকদের সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছেন । তাঁরা আরও জানান, এখন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে সংক্রমণের কোনও ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি ।