লরির সঙ্গে বেসরকারি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে প্রাণ গেল ১৪ জনের ৷ বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের মার্কাপুরম জেলায় ৷ ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ৷ রায়াবরমের কাছে অবস্থিত পাথর খাদ বা ‘প্ল্যাঙ্ক কোয়ারি’ এলাকায় সংঘর্ষের পরই উভয় গাড়িতেই আগুন ধরে যায় । এর জেরে বাসে থাকা ১৪ জন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান । আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হন । এই দুর্ঘটনায় বাস এবং লরিটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে । বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে । হায়দরাবাদ থেকে পামুরুর দিকে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে । জানা গিয়েছে, বাসটি যখন একটি মোড় ঘুরছিল, ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা টিপার লরিটি সজোরে ধাক্কা দেয় । লরিটির অত্যধিক গতিই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে প্রাথমিক অনুমান । দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ২০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন । মনে করা হচ্ছে, বাসের পিছনের অংশে বসে থাকা যাত্রীরা গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে । বাসের সামনের অংশে থাকা প্রায় ১০ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন । নিহত যাত্রীরা কানিগিরি এলাকার বাসিন্দা হতে পারেন বলে ধারণা । মার্কাপুরমের বিধায়ক কান্ডুলা নারায়ণ রেড্ডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন । দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ৷ মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কাপুরম জেলার রায়াবরম বাস দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে । সকল মন্ত্রী নিহতদের প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন । মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের 2 লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন । তিনি মন্ত্রী ও আধিকারিকদের আহতদের চিকিৎসা তদারকি করারও নির্দেশ দিয়েছেন । দুর্ঘটনায় আহত আরও ২০ জনকে অবিলম্বে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে । মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এমন তথ্যে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন । তিনি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ।