বিধানসভার অন্দরে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ । বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ আনল শাসকদল । শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম অর্ধের শেষ লগ্নে নিজেই এই বিষয়টি উত্থাপন করেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস । আগের দিনই কুণালের আচরণকে বিধানসভার ইতিহাসের এক ‘কলঙ্কময় অধ্যায়’ বলে কড়া মন্তব্য করেছিলেন তিনি । সেই ঘটনার জের টেনেই সপ্তাহের শেষ কাজের দিনে সরাসরি এই পদক্ষেপ করল শাসকপক্ষ । অধ্যক্ষের নির্দেশে বিধানসভায় বিষয়টিকে সামনে আনেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ । তিনি কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “উনি ইচ্ছাকৃতভাবে চেয়ারের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করছেন । তাঁকে ছোট করার চেষ্টা করছেন । কোনও সংবিধানিক পদে থেকে এমনটা করা যায় না । আর সে কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ দিচ্ছি আমরা ।” নোটিশ পেশের পর অভিযুক্ত বিধায়ককে নিজের মতামত তুলে ধরার সুযোগ দেন স্পিকার । কিন্তু অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান চাকদার বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ । তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে তাঁরা যখন বিরোধী দলে ছিলেন, তখন স্পিকারের নির্দেশে বহুবার তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, এমনকী এফআইআর পর্যন্ত করা হয়েছে । আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্য সুযোগটুকুও তাঁদের দেওয়া হয়নি । অথচ এমন আচরণের পরও বর্তমান অধ্যক্ষ কুণাল ঘোষকে নিজের বক্তব্য পেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন ।
এর পরই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য রাখেন কুণাল ঘোষ । দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি প্রথমেই বলি,আপনার এবং আপনার চেয়ারের প্রতি অসম্মান প্রকাশ করার কোনও উদ্দেশ্য আমার ছিল না, এখনও নেই । আমার কোনও আচরণ যদি আপনার কাছে মনে হয়, সেটা চেয়ারের জন্য অসম্মানের, আমি নিশ্চিতভাবে সেটার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি ।”

