সোনম ওয়াংচুকের 26 দিনের অনশন শেষ হয়েছে । কিন্তু ছাত্র আন্দোলন থামছে না । বরং অনশন ভাঙার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ডাক দিল ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই) । একই সঙ্গে কলকাতায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণও সামনে এল । পুলিশের অনুমতি না-পাওয়ায় নিজেদের আলাদা কর্মসূচি বাতিল করে এসএফআইয়ের ডাকা শিয়ালদা-ধর্মতলা মিছিলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) । অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি কলকাতায় কোনও আন্দোলন সংগঠিত করতে চাইলে সেই কর্মসূচিতে নৈতিক সমর্থনের কথা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার হাত থেকে স্যুপ পান করে 26 দিনের অনশন ভাঙেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক । ছাত্রদের দাবিকে সামনে রেখে প্রায় এক মাস ধরে চলা তাঁর অনশন দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল । অনশন ভাঙার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়ে তাঁর আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন । তবে সোনমের অনশন ভাঙাকে আন্দোলনের সমাপ্তি হিসেবে দেখতে নারাজ এসএফআই । শুক্রবার সকালে ভিডিয়ো বার্তায় সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন, আন্দোলন নয় । তাঁর অসমাপ্ত লড়াই এবার দেশের ছাত্র-যুবদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ।”
সৃজনের দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সিবিএসই-র ফলপ্রকাশ নিয়ে অভিযোগের নিষ্পত্তি, শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ – এই দাবিগুলির একটিও এখনও পূরণ হয়নি । তাই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই ।
তিনি বলেন, “26 দিন ধরে নিজের শরীরের কথা না-ভেবে ছাত্রদের দাবিতে লড়াই করেছেন সোনম ওয়াংচুক । সেই লড়াইকে আমরা স্যালুট জানাই । কিন্তু এখন তাঁর কাঁধ থেকে সেই দায়িত্ব দেশের তরুণ প্রজন্মের কাঁধে এসে পড়েছে । শিক্ষা ব্যবস্থার গলদ যতদিন না-দূর হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে ।”
এই আবহে শুক্রবার দুপুর আড়াইটে থেকে শিয়ালদা স্টেশন চত্বর থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিশাল মিছিলের ডাক দিয়েছে এসএফআই । এসএন ব্যানার্জি রোড ধরে ধর্মতলায় পৌঁছবে সেই মিছিল । সংগঠনের পক্ষ থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস বয়কট করে মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে । সন্ধের পর ধর্মতলায় হবে ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ কর্মসূচি ।
রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় নিজেদের পৃথক কর্মসূচি স্থগিত করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এসএফআইয়ের মিছিলে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ছাত্রদের দাবির প্রতি সংহতি জানাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে । ফলে বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচিতে অন্য একটি সংগঠনের যোগদান আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে ।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও এই ইস্যুতে ভিন্ন সুরে বার্তা দিয়েছে । দলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন । কলকাতায় যদি ককরোচ জনতা পার্টি ছাত্রদের দাবিতে কোনও কর্মসূচি করে, তবে তৃণমূলের নৈতিক সমর্থন থাকবে ।”

