বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠনের পর আরজি কর মামলায় একের পর এক নয়া পদক্ষেপ দেখছে রাজ্য তথা দেশবাসী ৷ মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অকুস্থল ফের সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন ৷ এর আগে তিন আইপিএস আধিকারিক- বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ৷ এদিন অকুস্থল সিল করার পাশাপাশি এই মামলায় যুক্ত আইনজীবীদের মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ পরবর্তী শুনানি 21 মে ৷ আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারের তরফে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এদিনের শুনানিতে আদালতে বলেন, “ঘটনাস্থলে ভাঙচুর করা হয়েছে ৷ আমরা ওই স্থান পরিদর্শন করতে চাই ৷ পাশাপাশি পরবর্তী তদন্তের আবেদন জানিয়েছি ৷ আমরা নতুন করে 38টি পয়েন্ট আদালতের কাছে জানিয়েছি ৷ এই পয়েন্টগুলির উপর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ৷” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিবিআই-এর তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজাকে আদালতে এসে তদন্তের বিষয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত ৷ কিন্তু তিনি আদালতে হাজির হননি ৷ সিবিআই-এর তরফে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার ও অমাজিৎ দে বলেন, “তদন্ত এখনও চলছে ৷ আমরা ইতিমধ্যে তদন্তের রিপোর্ট দিয়েছি ৷” তখন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সিবিআই-এর আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “ঘটনাস্থল সিল করা আছে ? না-হলে সিল করে দিন, কেউ যেন সেখানে প্রবেশ না-করে ৷” সিবিআই-এর তরফে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, “ঘটনাস্থল সিল করাই আছে ৷ কোর্ট অনুমতি দিলে তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজা ভার্চুয়ালি হাজিরা দিতে পারেন ৷” নির্যাতিতার পরিবারের তরফে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা শুনেছি, এখনও পর্যন্ত ক্রাইম স্থলের একটা অংশ খোলা রয়েছে ৷” এই ঘটনার তদন্তকারী আধিকারি সীমা পাহুজা ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে বলেন, “সেমিনার রুম বন্ধ করা রয়েছে ৷”

সিবিআই-এর তরফে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, “শিয়ালদা আদালত সমস্ত রিপোর্ট, তথ্যপ্রমাণ দেখার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, এই ঘটনা একজন ব্যক্তিই ঘটিয়েছে ৷” বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, “(নির্যাতিতার) পরিবার যে আরও তদন্তের আর্জি জানিয়েছে, আমরা সেটা খতিয়ে দেখতে চাই ৷ সব বিষয় একসঙ্গে শুনানি করতে হলে আদালতের সমস্যা হবে ৷” আইবনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় তখন বলেন, “সিবিআই যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেটা আমাদের দেওয়া হোক, যাতে আমরা দেখে আলোচনা করতে পারি ৷” বিচারপতি শম্পা সরকার তাঁদের বলেন, “রিপোর্টে নতুন কিছু নেই, যা আছে আপনারা সবটাই জানেন ৷” বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “আমরা প্রথমেই এই মামলায় পরবর্তী তদন্তের সুযোগ আছে কি না, সেটা নিয়ে শুনানি করব ৷ আগামী 21 মে (বৃহস্পতিবার) বেলা 2টোর সময় শুনানি ৷ পরে অন্যান্য বিষয়ে শুনানি করা হবে ৷” পাশাপাশি মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করতে নির্দেশ দেন দুই বিচারপতি ৷