অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কালীঘাট চত্বরে একাধিক ‘বেআইনি’ সম্পত্তি থাকার অভিযোগ উঠেছিল আগেই। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার কলকাতার কোথায়, কোথায় তাঁর ফ্ল্যাট বা বাড়ি আছে সেই সম্পত্তির তালিকা তৈরি করেছে কলকাতা কর্পোরেশন । এবার সেই তালিকায় থাকা 17টি ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে সম্পত্তির সমস্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো হল ৷ তার মধ্যে কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের দু’টি সম্পত্তির সমস্ত নথিও চেয়ে পাঠানো হয়ছে । বিধানসভার ফলাফল প্রকাশ পেতেই তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে থাকা বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী সরিয়ে দেয় নতুন সরকার । নিরাপত্তা কয়েক ধাপ কমিয়ে দেওয়া হয় । এসবের মধ্যেই সম্প্রতি কলকাতা কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর মূল্যায়ন বিভাগ ও বিল্ডিং বিভাগের কর্তারা জরুরি ভিত্তিতে নবান্নের তলবে সেখানে যান ৷ সেইসঙ্গে তাঁর কলকাতায় থাকা সম্পত্তির তালিকা জমা করে আসেন ।
কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে খবর, অভিষেকের বাড়ি ও ফ্ল্যাট মিলিয়ে প্রায় 40টিরও বেশি সম্পত্তির তালিকা তৈরি করেছেন পুরকর্তারা । এবার সেই তালিকায় থাকা 17টি সম্পত্তির সমস্ত নথি চেয়ে নোটিশ গেল সংশ্লিষ্ট ঠিকানাগুলিতে । কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিল্ডিং বিভাগ ওই 17টি সম্পত্তিতে নোটিশ দিয়ে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ডিট (দলিল), কর্পোরশনের বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, যদি এক্সটেনশন থাকে সেই অংশের অনুমোদন-সহ সম্পত্তি করের সমস্ত নথি কলকাতা কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দেখানোর কথা জানিয়েছে । এই 17টি তালিকায় কালীঘাট এলাকায় একটি রঙের দোকান, আরেকটি প্রাসাদোপম বাড়ির ঠিকানাও আছে বলে জানা গিয়েছে । এই প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে পুর কর্তৃপক্ষ কিছু না-বললেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা বলেন, 17টি তালিকায় নোটিশ পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকা হয়েছে । সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে । কোথাও বিল্ডিং প্ল্যানের বাইরে গিয়ে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে কি না, যদি হয়ে থাকে তার রেগুলারাইজেশন হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হবে । আইন মোতাবেক কাজ না-হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে । একাংশ আধিকারিকের পাল্টা প্রশ্ন, এত দিন সব জেনেও তাহলে যাঁরা চোখ বুজে ছিলেন তাঁরাও কি অপরাধ প্রশ্রয় দেয়নি বলা যায় ?

